AdvertisementAdvertisement

এসএসসি পরীক্ষায় নোয়াখালীতে পাসের হার কমলেও শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নোয়াখালী জেলার সামগ্রিক ফলাফল হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছে। জেলার সার্বিক পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ছয়টি জেলার মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে নোয়াখালী সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকলেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবারও জেলায় শ্রেষ্ঠত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। বিদ্যালয়টি থেকে ২৪৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ১৫২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। একই ধারাবাহিকতায় জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নোয়াখালী জিলা স্কুলের ২৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১ জন। এছাড়া সদর উপজেলার মোশারপ গ্রামার স্কুল, বেগমগঞ্জ উপজেলার জয়নাল আবেদীন মেমোরিয়াল একাডেমি এবং সোনাইমুড়ি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জেলায় মোট অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অংশগ্রহণ ও ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে। জেলায় মোট ১০ হাজার ৩৫৭ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ হাজার ৮ জন, অন্যদিকে ১৪ হাজার ৭২৬ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ৩৮ জন। এ বছর জেলায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থী এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা চারটি। গত বছরের ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশের তুলনায় পাসের হার বাড়লেও সার্বিক ফলাফল সন্তোষজনক নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ হলেও সর্বোচ্চ ৬৩০টি জিপিএ-৫ অর্জন করেছে নোয়াখালী সদর উপজেলা। তবে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে, যেখানে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। এমন ফলাফলের প্রেক্ষিতে হাতিয়াসহ পিছিয়ে পড়া উপজেলাগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ফলাফল ও সার্বিক মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, শিক্ষকদের কঠোর নজরদারি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যাবসায়ের ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে, নোয়াখালী জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম জানান, যেসব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের অধিকাংশেরই বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। আগামীতে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0%
0%
0%
0%