বাগদাদে ইরাক ও সৌদি আরব প্রতিনিধিদের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ

ইরাক ও সৌদি আরবের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনের লক্ষ্যে বাগদাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং সৌদি আরবের গোয়েন্দা প্রধান খালিদ বিন আলী আল হুমাইদান। গত ২৯ জুলাই ইরাকের ভূখণ্ডে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার জের ধরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, ওই হামলায় পাঁচ ইরানি নাগরিকসহ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মোট ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে সৌদি গোয়েন্দা প্রধান প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদিকে পুনরায় রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর আগে ২৯ জুলাইয়ের ওই হামলার প্রতিবাদে আল-জাইদি তার নির্ধারিত সৌদি সফর বাতিল করেছিলেন। বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে বাগদাদ ও রিয়াদ কীভাবে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পারে, তা নিয়েই মূলত বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে।
প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি পুনরায় দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের ক্ষেত্র হিসেবে ইরাকের মাটি ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাগদাদ তার অবস্থানে অবিচল বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। সৌদি আরব অবশ্য দাবি করেছে, তাদের তেল অবকাঠামোয় ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা ওই বিমান হামলা চালিয়েছিল, যার দায়ভার তারা ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়েছে।
তবে ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সৌদি আরবের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দেশটিতে চালানো অভিযানকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এদিকে, এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’। তবে শুক্রবার গোষ্ঠীটি জানায়, প্রভাবশালী রাজনীতিক হাদি আল-আমিরি ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের চাপের মুখে তারা আপাতত প্রতিশোধমূলক হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনের সমর্থন নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নাগাদ এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, যদিও প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক মহলের কাছ থেকে তিনি জোরালো বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। দীর্ঘকাল ধরেই ইরাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এক প্রকার ‘প্রক্সি’ বা পরোক্ষ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যা দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
