AdvertisementAdvertisement

সুদান যুদ্ধ: অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে ৮০ লক্ষ শিশুর শিক্ষাজীবন

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ধসে পড়েছে, যার ফলে ৮০ লাখেরও বেশি শিশু বর্তমানে বিদ্যালয়ের আঙিনার বাইরে রয়েছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে গত ১২১০ দিনে দেশটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস অথবা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে একটি ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব আমিনা মোহাম্মাদ নিরাপত্তা পরিষদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ সুদানের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং একটি গোটা প্রজন্মকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করছে। তিনি আরও জানান, প্রতি ছয়জন শিশুর মধ্যে পাঁচজনই এখন স্কুলের বাইরে। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেয়ে বাড়িতে রাখাটাকেই নিরাপদ মনে করছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংঘাতের ভয়াবহতায় শুধু শিশুরাই নয়, শিক্ষকরাও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমিনা মোহাম্মাদের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বেতন পাচ্ছেন না, তবুও চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। এছাড়া ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্কুলে অন্তত ৬৭টি হামলা এবং ১৫৪ বার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সামরিক কাজে ব্যবহারের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে জাতিসংঘ, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যকার এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ জরুরি মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে, যার অর্ধেকই শিশু। যদিও জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো এ বছর ১০ লাখ শিশুকে পাঠদানের আওতায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, তবে প্রয়োজনের তুলনায় এটি অত্যন্ত অপ্রতুল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সুদান সফর শেষে এই পরিস্থিতিকে কেবল একটি সাধারণ সংঘাত নয়, বরং একটি ‘চলমান মানবাধিকার বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জানান, সেখানে নির্বিচার হত্যা এবং যৌন নিপীড়নের মতো ভয়াবহ অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুদ্ধের পুরো দায়ভার মূলত নারী ও শিশুদের ওপরই বর্তাচ্ছে, যাদের এই সংঘাতের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও সবচেয়ে বেশি মাশুল গুনতে হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%