AdvertisementAdvertisement

ইয়েমেনের মারিব শহরে হুথি হামলায় দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৪ জন আহত

ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন মারিব শহরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় কমপক্ষে দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বাহাইবাহ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, হতাহতের এই সংখ্যা প্রাথমিক এবং প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মারিবের নিরাপদ আবাসিক এলাকা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে এই বর্বরোচিত ঘটনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ও কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

হামলার পরপরই দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার হাদরামুত ও মারিব প্রদেশে হুথিদের হামলায় অন্তত ৩০ জন সরকারি সেনা নিহত হন। শুক্রবার ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তাদের বাহিনী মারিবের আকাশে হুথিদের বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা অনুসারে মারিব শহরে ইয়েমেনের সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। গত জুলাই মাসের শুরু থেকেই ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনে বিক্ষিপ্ত সংঘাত বেড়ে চলেছে, যা উভয় পক্ষে বহু হতাহতের কারণ হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার আঁচ ইয়েমেনেও পড়েছে, যার ফলে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান শহরেও হুথিরা হামলা চালিয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নাজরানে হুথিদের হামলায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক এই অস্থিরতার মধ্যেই শুক্রবার সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তাকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুথিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%