AdvertisementAdvertisement

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের হারানো অংশ দখলে পিছিয়ে বাংলাদেশ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজার থেকে চীন প্রায় ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল বা ওটেক্সা-এর তথ্যানুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে চীন থেকে মার্কিন বাজারে পোশাক আমদানি ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে চীনের হারানো বাজারের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের দখলে না এসে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগীদের ঝুলিতে জমা হয়েছে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৫০৯ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪০১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। যদিও গত ফেব্রুয়ারিতে চীনকে টপকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশের গৌরব অর্জন করেছিল এবং জুন পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রেখেছে, তবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সূচকে এই নিম্নমুখী প্রবণতা শিল্পমালিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি ১ শতাংশ বেড়ে ৭৮৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি যথাক্রমে ৩ শতাংশ ও ১২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, চীন থেকে সরে আসা ক্রয়াদেশের সিংহভাগই কৃত্রিম তন্তু বা ম্যানমেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, যে খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি দীর্ঘ লিড টাইম বা পণ্য সরবরাহের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন বাজারের চাহিদাও বাংলাদেশ পূর্ণমাত্রায় ধরতে পারছে না। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানিয়েছেন যে, তুলাবিহীন পোশাকের বাজারে দক্ষতা কম থাকা এবং লজিস্টিকস দুর্বলতার কারণে ক্রেতারা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও বাণিজ্যনীতির জটিল সমীকরণে মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের অভিযোগ মাথায় নিয়ে বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশ এখন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের মুখোমুখি। তবে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভিয়েতনামের ওপর আরোপিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের চেয়ে বাংলাদেশের ১০ শতাংশ শুল্কহার কিছুটা সহনীয় হওয়ায় ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম জানান, বিদ্যমান ২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক-সুবিধা ও মার্কিন ক্রেতাদের আস্থা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বছরের দ্বিতীয় ভাগে ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হওয়া অস্বস্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলে এবং লজিস্টিকস সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারলে চীন থেকে সরে আসা ক্রয়াদেশগুলো আরও ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

0%
0%
0%
0%