নিট প্রশ্নফাঁস এনটিএর গাফিলতি ও তিন বিশেষজ্ঞের যোগসাজশ সিবিআইয়ের চার্জশিটে ১৩ জনের নাম

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী নিট-ইউজি (এনইইটি-ইউজি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সম্প্রতি দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ আদালতে জমা দেওয়া ৯৪ পৃষ্ঠার চার্জশিটে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ গাফিলতি এবং কঠোর গোপনীয়তার অভাবকেই কাজে লাগিয়েছিল চক্রটি। এই মামলায় মোট ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, যাদের সবাই বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, ভারত সরকারের অধীনস্থ জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার অধীনে কর্মরত তিন বিষয় বিশেষজ্ঞ সরাসরি এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বোটানি-জুলজির বিশেষজ্ঞ মানিশা গুরুনাথ মান্ধারে, কেমিস্ট্রির বিশেষজ্ঞ প্রহ্লাদ কুলকার্নি এবং মানিশা সঞ্জয় হাভালদার। এনটিএ-র গোপনীয় বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তারা প্রশ্নপত্রের অনুবাদ, প্রুফরিডিং এবং ব্যাক-ট্রান্সলেশনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সিবিআইয়ের দাবি, সরকারি কর্মী হিসেবে অর্পিত দায়িত্বের চরম অবমাননা করে তারা পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র বাইরে পাচার করেন।
চার্জশিটের বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নি অত্যন্ত সুকৌশলে রসায়নের ১৩৫টি প্রশ্ন ও উত্তর সংক্ষেপে ছোট চিরকুটে লিখে এনটিএ দপ্তরের বাইরে নিয়ে যান। অন্য দুই বিশেষজ্ঞ প্রশ্নপত্র মুখস্থ করে কিংবা এনসিইআরটি বইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশ চিহ্নিত করে বাইরে পৌঁছে দিতেন। তদন্তকারীদের ভাষ্যমতে, এনটিএ দপ্তরে সিসিটিভির লাইভ ফিড পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কন্ট্রোল রুম ছিল না, যার ফলে গোপনীয় বিভাগে বিশেষজ্ঞদের এই সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরদারির বাইরে থেকে গিয়েছিল।
এই বিশাল জালিয়াতি উদ্ঘাটনে সিবিআই ৩৬০ জন সাক্ষী, ৪২২টি নথি এবং ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ আলামত আদালতে উপস্থাপন করেছে। গত ১২ মে শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি রুজু হওয়ার পর থেকে ৭২ জন কর্মকর্তা এবং আটজন সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হরিয়ানা ও দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ৯২টি স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে ডিজিটাল ডিভাইসসহ নানা প্রমাণ উদ্ধারের পাশাপাশি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িতদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮ এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁসের জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং পরবর্তীকালে ২১ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। তদন্তকারী সংস্থাটির দাবি, প্রশ্নফাঁসের উৎস থেকে শুরু করে সুবিধাভোগী পরীক্ষার্থী পর্যন্ত পুরো চক্রের হদিস তারা পেয়েছেন।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
