নেত্রকোনায় কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় সালিশি বৈঠকের মূল হোতা গ্রেপ্তার

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। শুক্রবার সকালে র্যাবের পক্ষ থেকে তাকে নেত্রকোনা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ময়মনসিংহে র্যাব-১৪-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন।
অভিযোগ ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন রিপন। গত ৩০ জুলাই রাতে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে নিয়ে মগড়া নদীর পাড়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন তিনি। ঘটনার পর কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত রিপন গা ঢাকা দেন। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই স্থানীয় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে রিপন নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে বসতবাড়ি ভুক্তভোগীর নামে লিখে দেওয়ার রায় দেওয়া হয়। সালিসের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত রিপন মাতব্বরদের পা ধরে ক্ষমা চাইছেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহনেওয়াজ জানান, ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত রিপনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
