AdvertisementAdvertisement

কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, লক্ষ্যবস্তু সামরিক সরঞ্জাম কেনায় সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি

কিউবার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে অস্ত্র আমদানিতে সহায়তার অভিযোগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এবং আটজন ব্যক্তির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টেকনোআমপোর্ট, যা কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য রাশিয়া ও চীন থেকে সামরিক সরঞ্জাম আমদানির কাজ করে। এছাড়া সামরিক অস্ত্র প্রস্তুত ও মেরামতের কাজে নিয়োজিত ইউনিয়ন ডি ইন্ডাস্ট্রিয়া মিলিতার এবং রাশিয়ান প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পরিচিত ইএমআই ইউরি গ্যাগারিনকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিউবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলভারো লোপেজ মিয়েরা এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ রবার্তো লেগ্রা সোটোলঙ্গোর মতো শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়েছে এবং মার্কিন নাগরিকদের তাদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কোনো বিদেশি ব্যাংক বা কোম্পানি যদি এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন অব্যাহত রাখে, তবে তাদেরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হবে। কিউবা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক ও আদর্শিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে, যা বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে নতুন করে তীব্রতর হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এর আগে কিউবাকে ‘সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে পুনরায় চিহ্নিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিউবার পক্ষ থেকে ড্রোনসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার খবর প্রকাশের পর থেকেই ওয়াশিংটন এমন কঠোর অবস্থানের জানান দিচ্ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসেও কিউবার জ্বালানি ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠান ও দুই ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কিউবাকে বিশ্বব্যাপী ‘মার্কিন-বিরোধী জোটের’ মূল কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্তোনি কাপসিয়াসহ অনেক বিশেষজ্ঞ ও ইতিহাসবিদ মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবুও রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, কিউবার নিরাপত্তা কাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহায়তা দমনে যুক্তরাষ্ট্র তার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র বা কৌশল ব্যবহার অব্যাহত রাখবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%