ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল রাঁচি আলোচনার শর্তে অনড় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

সরকারি চাকরির নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ডে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলন এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে টানা ১২ দিন ধরে চলা এই অবস্থান কর্মসূচি ক্রমে একটি গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। নজিরবিহীন এই চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ভারতর ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকার। তবে সরকারি প্রতিনিধিদলের আহ্বানে সাড়া দিলেও শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক নয়, বরং সমস্ত আলোচনা হতে হবে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে এবং প্রকাশ্যে।
গত ৫ জুলাই ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বা জেপিএসসির ১৪তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং ফলাফলে একাধিক অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলনের পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে শত শত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে তা এক বিশাল সমাবেশে পরিণত হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হন রাঁচির মহকুমাশাসক কুমার রজত। তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানান, সরকার আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে আগ্রহী এবং এ লক্ষ্যে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠনের অনুরোধ জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগগুলোর তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনশন ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক দেবেন্দ্র মাহাতো, যিনি টানা পাঁচ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, জানান যে সরকারের সাথে আলোচনায় বসতে প্রতিনিধি দল গঠন করা হলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই। এদিকে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। ককরোচ জনতা পার্টির বা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে জানান, ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীদের এই লড়াই কেবল নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নয়, বরং বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এই সংকট নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নীরবতাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস-সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় থাকায় রাহুল গান্ধী ছাত্রদের এই যৌক্তিক আন্দোলন নিয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী ইরফান আনসারি দাবি করেছেন, সরকার আলোচনার পথ উন্মুক্ত করেছে এবং একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যুক্তিসঙ্গত বিবেচিত হলে সরকার তা গুরুত্ব সহকারে দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে সরকার ও শিক্ষার্থীদের এই মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে আলোচনার টেবিলে আদৌ কোনো কার্যকর সমাধানের পথ বেরিয়ে আসে কি না, তা নিয়ে জনমনে এখন গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
