AdvertisementAdvertisement

হালুয়াঘাটে শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সংকটে ধুঁকছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা তীব্র শিক্ষক সংকট, নাজুক যোগাযোগব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত নানা জটিলতায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। উপজেলাজুড়ে মোট ১৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮টিতে মাত্র নিয়মিত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন, বাকি ১০৭টি বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত অথবা চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করে। প্রশাসনিক তদারকির অভাবে অনেক স্কুলেই শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ৯১৩টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮০৯ জন, যা পাঠদান কার্যক্রমকে আরও শ্লথ করে তুলেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক কাজেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। পাঁচজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিপরীতে মাত্র দুজন দায়িত্ব পালন করছেন এবং অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরের পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। একজন উচ্চমান সহকারীর ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকায় দাপ্তরিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশায় বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। গোপীনগর, বটগাছিয়াকান্দা, পূর্বকালিয়ানিকান্দা, বোয়ালমারা, পূর্বনড়াইল, মহাজনীকান্দা, ঝাউগড়া ও উত্তর ইটাখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ বর্ষায় কাদা-পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যাকবলিত এসব এলাকায় তখন পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পশ্চিম নিশ্চিন্তপুর, ঝুলঝলিয়া ও নলুয়াসহ একাধিক বিদ্যালয়ের কাঁচা রাস্তাগুলো খানাখন্দে ভরা থাকায় যাতায়াত প্রতিকূলতায় এসব স্কুলে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

পৌরশহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর উত্তর সরকারি ও আকনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুলের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম সংকটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের অনুপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে; উত্তর মাছাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারীকরণ করা হলেও আজও টিনশেড ঘরে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। রামখালীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান চলছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে ১৬৫টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৫৯২ জনে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দুই হাজার বেশি। শিক্ষার্থী বাড়লেও অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেলিমা আক্তার খাতুন জানিয়েছেন, অনতিবিলম্বে শূন্যপদে নিয়োগ এবং শ্রেণিকক্ষ ও যোগাযোগব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। স্থানীয় অভিভাবকসহ সচেতন মহল অবিলম্বে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%