জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও গণভবনে সচল ছিল বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা

জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে যখন দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল, তখনও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক দলের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যম, গোপন মোবাইল নম্বর এবং স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট সেবা কার্যত অচল করে দেওয়া হলেও গণভবনে বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের ব্যাকআপ সংযোগ ব্যবহার করে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হতো এবং গণভবনের ছাদে বিশেষ টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম স্থাপনের তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, তাদের তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সীমিত থাকলেও গণভবনে বিশেষ কনফিগারেশনের মাধ্যমে উচ্চগতির সংযোগ চালু ছিল।
তদন্ত সূত্র অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকেই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আঁচ পেয়ে শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠজনদের গোপনে দেশ ত্যাগের বার্তা পাঠাতে শুরু করেছিলেন। ৩ আগস্ট এক দফা দাবির ঘোষণার পর তার ব্যবহৃত একটি ফোন থেকে প্রায় ৭০টি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১১টি নম্বরের বিপরীতে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ৪ আগস্ট নিরাপত্তার ঝুঁকি বেড়ে গেলে তিনি নিজস্ব মোবাইল ব্যবহারের পরিবর্তে স্যাটেলাইট ফোন এবং গণভবনের কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার করে যোগাযোগ চালিয়ে যান।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই স্যাটেলাইট ফোন থেকেই তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাময়িক আশ্রয়ের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে সম্মতি পাওয়ার পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে তিনি দেশত্যাগ করেন। যাত্রার আগে কুর্মিটোলা এয়ার মুভমেন্টে অবস্থানকালে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ করেছিলেন, যার একটি ছিল সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে নিবন্ধিত একটি নম্বরে, যা সেই মুহূর্তে দেশ থেকেই সক্রিয় ছিল।
এদিকে, এই পুরো প্রক্রিয়ার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জলসিঁড়িতে অবস্থিত জিয়াউল আহসানের বাসভবনে একটি নিজস্ব সার্ভারভিত্তিক ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহার দাবি, সেখানে সাধারণ বিদ্যুৎ সংযোগের বাইরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং এই স্বতন্ত্র সার্ভার ব্যবস্থাটিকে তিনি ‘ডিজিটাল আয়নাঘর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
