এইচ-১বি ভিসা নবায়নে অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধির পথে ট্রাম্প প্রশাসন, দুশ্চিন্তায় ভারতীয় পেশাজীবীরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির স্বপ্ন দেখা হাজার হাজার ভারতীয় পেশাদারের কপালে নতুন করে উদ্বেগের ভাঁজ পড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি এবং এল-১ ভিসা সংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাব বিবেচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা কার্যকর হলে মার্কিন সংস্থাগুলির ওপর আর্থিক বোঝা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত বিদ্যমান ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা রিনিউ করার ক্ষেত্রে নতুন করে অতিরিক্ত ফি বাধ্যতামূলক করার এই উদ্যোগের ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারেন ভারতীয় প্রযুক্তিবিদরা।
বর্তমানে কোনো সংস্থা নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করলে বা কর্মী সংস্থা পরিবর্তন করলে ‘৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি’ প্রদান করতে হয়। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে বিদ্যমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে গেলেও নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে এই মোটা অঙ্কের ফি গুনতে হবে। বিশেষ করে যে সমস্ত সংস্থার মোট কর্মী বাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিদেশি ভিসাধারী, তাদের জন্য নতুন এই নীতিটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াবে। উল্লেখ্য, নতুন এইচ-১বি আবেদনের জন্য বর্তমানে ৪,০০০ ডলার এবং এল-১ আবেদনের জন্য ৪,৫০০ ডলার ফি দিতে হয়, যা মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার পরিকল্পনা চলছে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এজেন্সির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়মটি মূলত ৫০ বা তার বেশি কর্মী থাকা সংস্থাগুলিকে লক্ষ্য করেই আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রথম প্রকাশিত এই খসড়াটি বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন সরকারের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট এবং অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের মাধ্যমে এই নতুন নিয়মাবলী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতে কর্মরত ভারতীয় পেশাদারদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার তথ্যমতে, ২০২৫ অর্থবর্ষে অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসা এক্সটেনশনের প্রায় ৭৭.৬ শতাংশ বা ২,২৬,৩৫৯টি আবেদনই ছিল ভারতীয়দের। মোট ৪,০৬,৩৪৮টি অনুমোদিত আবেদনের মধ্যে বিশাল এই অংশটি নির্দেশ করে যে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নিয়োগকারী সংস্থাগুলি খরচ কমাতে বিদেশি কর্মীদের বহাল রাখার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল মনোভাব পোষণ করতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন ভিসার আবেদনের ওপর অনুরূপ ফি চাপানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তা মার্কিন আদালতে আইনি বাধার মুখে পড়েছিল। বোস্টনের একটি ফেডারেল আপিল আদালত ওই পদক্ষেপের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করার পরপরই নতুন এই প্রস্তাবটি সামনে এল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু বহুজাতিক সংস্থা যারা এল-১ ভিসার মাধ্যমে নির্বাহী ও ম্যানেজারদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বদলি করে, তারাও এই আর্থিক পরিবর্তনের ফলে সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
