স্পেনের সেউতায় আশ্রয়ের আশায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতার সৈকতে এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন সুদান, সোমালিয়া, মালি, সেনেগাল ও মিশরের কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশী। খালি পড়ে থাকা বিলাসবহুল অবকাশ যাপনের ভিলার নিচে বালুকাময় এই সৈকতে তাদের দৈনন্দিন জীবন এখন চরম মানবেতর। পর্যাপ্ত খাদ্য, পানীয় এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাবে ধুঁকছেন তারা, যা গত সপ্তাহে মরক্কো থেকে সেউতায় আসা বিশাল অভিবাসী স্রোতের এক করুণ পরিণতির বহিঃপ্রকাশ।
স্পেন ও মরক্কোর মধ্যকার বিশেষ চুক্তির আওতায় ইতিমধ্যে হাজার হাজার মরক্কো নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। স্প্যানিশ সরকার এই বিষয়টি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে তৎপর। তবে সৈকতে আশ্রয় নেওয়া এই মানুষগুলো ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি; অভিবাসন কেন্দ্রে জায়গা না হওয়ায় তাদের ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর পথও সংকুচিত, আবার স্বেচ্ছায় ফিরে যেতেও তারা নারাজ।
জীবন ও জীবিকার তাগিদে আসা এসব মানুষের গল্পের প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে আছে যুদ্ধ, দারিদ্র্য আর অস্তিত্বের লড়াই। সোমালিয়ার এক তরুণ জানান, নিয়তি যদি এখানে মৃত্যু লিখে রাখে, তবে তা বরণ করে নিতেও তিনি প্রস্তুত, কারণ অন্তত তিনি স্বপ্নের পেছনে ছুটেছেন। সেনেগাল থেকে আসা ওমারসহ আরও কয়েকজন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, তারা ভিক্ষা করতে নয়, বরং পরিশ্রম করে অবদান রাখতে ইউরোপের মাটিতে পা রেখেছেন।
এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকার এই বছর প্রায় ১০ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনসংখ্যা হ্রাস এবং শ্রমবাজারের সংকট নিরসনে একে ‘প্রগতিশীল বাস্তববাদ’ হিসেবে দেখছে মাদ্রিদ। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক রক্ষণশীল সরকার এই পদক্ষেপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অগ্রহণযোগ্য বলে কঠোর সমালোচনা করেছে।
সেউতার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপের পপুলিস্ট বা উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সরকারের অভিবাসন নীতির ব্যর্থতাকে সামনে নিয়ে আসছে। যদিও ঘটনার নেপথ্যে পাচারকারী চক্রের সক্রিয়তা এবং মরক্কোর সীমান্তরক্ষীদের রহস্যময় ভূমিকার মতো জটিল বিষয়গুলো এখনো অস্পষ্ট। তবুও এসব বিতর্ক ছাপিয়ে সৈকতে অপেক্ষমাণ মানুষগুলোর চোখেমুখে টিকে থাকার আকুতি স্পষ্ট। সৈকতের নাম ‘প্লায়া দেল ট্রাম্পোলিন’ বা ‘লাফানোর সৈকত’, যা এই অভিবাসীদের কাছে নতুন আশার আলো হয়ে ধরা দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
