সিন্ধুর সরকারি বিদ্যালয়ে ১৭ আগস্ট থেকে চালু হচ্ছে মুখাবয়ব শনাক্তকরণ উপস্থিতি ব্যবস্থা

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের উপস্থিতির হার নিশ্চিত করতে ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফেসিয়াল রিকগনিশন হাজিরা ব্যবস্থা চালু করছে প্রাদেশিক সরকার। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে সিন্ধুর ছয়টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি যুক্ত ‘ফ্রেমস’ বা ফেসিয়াল রিকগনিশন অ্যাটেনডেন্স মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন সিস্টেম কার্যক্রম শুরু হবে।
করাচিতে মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যুগান্তকারী উদ্যোগটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের সিন্ধুর শিক্ষামন্ত্রী সৈয়দ সরদার আলী শাহ, মুখ্য সচিব আসিফ হায়দার শাহসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রথম ধাপে প্রতিটি বিভাগ থেকে একটি করে মোট ছয়টি জেলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব জেলার সকল শিক্ষক ও কর্মচারীর তথ্য নিবন্ধনের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান বা জিওট্যাগিং সম্পন্ন হয়েছে।
এই আধুনিক পদ্ধতিটি অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই কাজ করবে, যার ফলে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল থাকলেও হাজিরা গ্রহণে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। এখন থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে আসা ও যাওয়ার সময় এই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষিত হবে। এর ফলে উপস্থিতির একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল নথি তৈরি হবে, যা দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি ও কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার মতো সমস্যাগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করবে।
পাকিস্তানের সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহ এই ব্যবস্থাকে কেবল একটি ডিজিটাল অ্যাপ নয়, বরং শিক্ষা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রথম পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করা মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের পূর্বশর্ত। তিনি এই প্রকল্পের কার্যকারিতা যাচাই করে পর্যায়ক্রমে প্রদেশের বাকি জেলাগুলোতেও এটি ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাকিস্তানের সিন্ধুর শিক্ষামন্ত্রী সৈয়দ সরদার আলী শাহ জানান, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তিগত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রদেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
