AdvertisementAdvertisement

বিশ্বকাপের মুনাফা বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করলেন আর্সেন ওয়েঙ্গার

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ভবিষ্যৎ নিয়ে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত আর্থিক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবশেষে মুখ খুললেন ফুটবলের কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ভেঙ্গার। ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের মুনাফা ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির যে প্রস্তাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, তা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান। ভেঙ্গারের মতে, এই প্রস্তাব বাতিল করা ছিল একান্তই অপরিহার্য এবং সময়ের দাবি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, ফিফার এই বিতর্কিত পরিকল্পনাটি ছিল মূলত বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব এবং মুনাফার একটি বড় অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া। এই প্রকল্পের অধীনে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি প্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। তবে উয়েফাসহ বিভিন্ন মহলের কড়া হুঁশিয়ারি ও বয়কটের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত গত শনিবার নিজের বিতর্কিত এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হন ফিফা সভাপতি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এই জটিল পরিস্থিতিতে আর্সেন ভেঙ্গার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং মিডিয়া রিপোর্টের মাধ্যমেই তিনি প্রথম এই প্রকল্পের বিষয়ে অবগত হন। তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে ফুটবল পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন ফিফা অত্যন্ত জরুরি। ফিফার সঙ্গে নিজের কর্মপরিধি নিয়ে ভেঙ্গার জানান, তার প্রধান দায়িত্ব হলো ফুটবলের ডেটা বিশ্লেষণ, অনলাইন ট্রেনিং সেন্টারের তদারকি এবং বিশ্বের ৬০টি দেশে যুব ফুটবল একাডেমি ও প্রতিযোগিতার উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, উয়েফার আইনি পরামর্শকরা ভেঙ্গারসহ ১৮ জন ফিফা কর্মকর্তার তথ্য ও যোগাযোগ সংরক্ষিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদিও উয়েফা বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মূলত সুইজারল্যান্ডের আইন অনুযায়ী অলাভজনক সংস্থা হিসেবে পরিচালিত ফিফার ২১১টি সদস্য ফেডারেশনকে প্রলোভন হিসেবে মাথাপিছু ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা ফুটবলের প্রশাসনিক নৈতিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল। তবে ভেঙ্গারের এই বক্তব্য ফিফার অভ্যন্তরে চলমান অস্থিরতা এবং ক্ষমতার লড়াইকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

0%
0%
0%
0%