যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপযোগিতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা ও কেন্দ্রকে নোটিশ জারি

নয়া দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের জন্য আর উপযুক্ত স্থান কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে এই বিষয়ে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে।
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনকারী সতীশ চাঁদ কৌশিক তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, যন্তর মন্তরে ক্রমাগত বিক্ষোভের ফলে ওই এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যাতায়াত ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে যে অন্তরায় সৃষ্টি হচ্ছে, তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও মতামত গ্রহণ করেন।
শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর আইনজীবী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন একটি প্রস্তাবিত রাজনৈতিক মিছিলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে প্রধান বিচারপতি তা নিয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং কোনো প্রকার অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হলে আদালত বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করবে। আদালত এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়ার জন্য মামলাটি আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর দীর্ঘকাল ধরে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত হলেও সম্প্রতি তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গত ২০ জুলাই নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সিজেপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলের সময় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, পুলিশি লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে সামনে নিয়ে আসে। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হওয়ার পর অবশেষে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং দাবি পূরণের আশ্বাসে ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং নাগরিক ভোগান্তি লাঘবে আদালত এখন যন্তর মন্তরের বিকল্প কোনো স্থানের সন্ধানে সরব হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
