সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২০১৯ সালের পরিমার্জিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব কিংবা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারলেও, তা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা দাপ্তরিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই প্রতিটি কর্মচারীর প্রধান দায়িত্ব।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী রাষ্ট্রবিরোধী, সাম্প্রদায়িক, বিদ্বেষমূলক বা বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা শেয়ার করতে পারবেন না। এমনকি এ ধরনের বিতর্কিত কনটেন্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ারের মাধ্যমে সমর্থন জানানো থেকেও বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, সরকারি নথি বা কৌশলগত পরিকল্পনা ফাঁস করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না, যা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার বিষয়টিও নীতিমালায় গুরুত্ব পেয়েছে। কোনো রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশগ্রহণ বা এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করা যাবে না, যা কর্মচারীর নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তা সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপিত না হয়। এছাড়া কপিরাইট লঙ্ঘন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার কিংবা অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করা হবে।
অন্যদিকে, জনসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন সতর্কতা এবং নাগরিকসেবামূলক তথ্য প্রচার করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত এসব অ্যাকাউন্ট তদারকি করবেন এবং নাগরিকদের বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্নের দ্রুত ও সঠিক জবাব নিশ্চিত করবেন।
এই নির্দেশিকা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা এবং শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার আওতায় যথাযথ বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পেশাগত দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল সরকারি কর্মচারীকে এসব নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
