স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্দেশনার অপেক্ষায় নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পায়নি নির্বাচন কমিশন। এ পরিস্থিতির কারণে ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসায় এই সময়সীমা অপরিবর্তিত থাকবে নাকি বর্ধিত করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনীর একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনাররা দেশে ফিরলে এই প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। তবে অক্টোবরে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করা এখনই সমীচীন নয় বলে জানান তিনি।
তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণ পর্যন্ত ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন হয় এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি মিলিয়ে প্রায় ৩ মাস সময়ের প্রয়োজন। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন করে সংলাপের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে জানান তিনি। এছাড়া নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রসঙ্গে সচিব জানান, বর্তমানে কার্যকর ৫৮টি দলের মধ্যে ৩৮টি নির্ধারিত সময়ে অডিট প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ১৩টি দল সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে এবং ৮টি দল কোনো সাড়া দেয়নি, যাদের আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, এখনো তফসিল নির্ধারণ হয়নি। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয়ের কাছে ভোটার তালিকা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একটি কমিটি কাজ করছে এবং কমিটির কার্যপরিধি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
