AdvertisementAdvertisement

ইনজুরি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নতুন দীক্ষায় সাই কিশোর

২০২৫ সালের আইপিএল মৌসুমটি ছিল বাঁহাতি স্পিনার সাই কিশোরের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়। সেই টুর্নামেন্টে ১৯টি উইকেট শিকার করে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি। গুজরাট টাইটানস ও তামিলনাড়ুর সতীর্থ শাহরুখ খান তার সেই ফর্ম দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু সাফল্যের সেই শিখর থেকে ২০২৬ সালে এসে ছন্দপতন ঘটে সাই কিশোরের। দুই আসরে কেবল তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও তার ঝুলিতে আসে মাত্র একটি উইকেট।

তবে এই ছন্দহীনতার পেছনে কেবল কৌশলগত পরিবর্তনের দায় নেই। এর শুরুটা হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে চেন্নাইয়ের এক ক্লাব ম্যাচে। আঙুলের চোটে পড়ে অস্ত্রোপচারের টেবিলে যেতে হয়েছিল তাকে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে নভেম্বরের ১ তারিখে বিদর্ভের বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফি দিয়ে ফিরলেও, তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামার সিদ্ধান্তটি যে ভুল ছিল তা এখন অকপটে স্বীকার করছেন এই স্পিনার। তিনি জানান, পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার আগেই খেলতে নামাটা ছিল তার ক্যারিয়ারের জন্য এক ভুল পদক্ষেপ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজয় হাজারে ও সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতেও সেই চোরাবালির ছাপ স্পষ্ট ছিল। সাই কিশোরের ভাষায়, তরুণ বয়সে যে পরিপক্বতার অভাব ছিল, সেই শিক্ষাটাই তিনি পাচ্ছেন এখন। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের জার্সিতে প্রতিনিধিত্ব করা এই ক্রিকেটার মনে করেন, মাঠের পারফরম্যান্স অনেকটাই পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। গত বছর সব কিছু তার অনুকূলে থাকলেও, এবার চ্যালেঞ্জ ছিল ভিন্ন। ভোর ৪টায় একা মাঠে অনুশীলনে নেমে পড়া কিশোরের কাছে এখন সাফল্যের সংজ্ঞা কেবল উইকেট শিকার নয়, বরং মানসিক শান্তি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভারতীয় ক্রিকেটের চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে টিকে থাকতে নিজের ভেতরটাই তিনি খুঁজে নিচ্ছেন নতুন করে। রশিদ খানের সাথে স্পিন বোলিং নিয়ে নোট আদান-প্রদান আর নিজের ক্যরম বলের কারুকাজ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন তিনি। বাইরের পরিবর্তনকে মেনে নিয়ে নিজের ভেতরটা স্থির রাখার দীক্ষাই এখন তার মূলমন্ত্র। পারসেপশন বা মানুষের ধারণার পেছনে না ছুটে সততার সাথে পরিশ্রম করে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা তার কণ্ঠে।

২৯ বছর বয়সী সাই কিশোর মনে করেন, সব কিছুকে আঁকড়ে ধরার প্রয়োজন নেই। মাইক হাসি ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের কথোপকথনের সেই ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’ এর দর্শন মেনে তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সময়ে যা পাওয়ার তা আপনাআপনিই আসবে। ৪ আগস্ট তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে ফের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরছেন তিনি। সামনের ১২ মাসে দক্ষতা বৃদ্ধি, মানসিক পরিপক্বতা এবং আধ্যাত্মিক বিবর্তন—এই ত্রিভুজ লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছেন সাই কিশোর।

0%
0%
0%
0%