AdvertisementAdvertisement

রাশিয়া ও ইউক্রেনে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, উভয় পক্ষে প্রাণহানি ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অভ্যন্তরে অন্তত আটজন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই দীর্ঘপাল্লার হামলা মূলত রাশিয়ার তেল শোধনাগার, কৌশলগত বিমানঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের ভেতরে রাশিয়ার বিমান হামলায় সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং দেশটিতে মার্কিন সরবরাহকৃত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের চরম সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উদমুর্তিয়া অঞ্চলে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সারাভত ও এঙ্গেলস শহরে আবাসিক ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে আরও দুইজনের প্রাণহানি ঘটে। সারাভত অঞ্চলের গভর্নর রোমান বুসারগিন জানিয়েছেন, শহর দুটির তেল শোধনাগার এবং কৌশলগত বিমানঘাঁটি বারবার ইউক্রেনের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিস’-এর একটি গুদামেও ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাত লেগেছে। গত ১৮ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১২টি স্থাপনায় আক্রমণ চালানো হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া। মস্কোকে যুদ্ধের মাসুল দিতে বাধ্য করার কৌশল হিসেবেই ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের হামলা রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে নিয়ে যাচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া ও খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, জাপোরিঝিয়ায় আবাসিক ভবনে রাশিয়ার গাইডেড বোমার আঘাতে এবং খারকিভের কাছে একটি ডাক টার্মিনালে হামলায় আরও দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে উভয় পক্ষই এখন সম্মুখ সমরের বাইরে গিয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে একে অপরের ভূখণ্ডে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসের প্রথম ২৭ দিনে রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনে ১৭০ জনেরও বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে রাশিয়ার ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। জুলাই মাসে রাশিয়া রেকর্ড ৩৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%