পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গি হামলায় ১১ নিরাপত্তা সদস্যসহ নিহত ২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী হাঙ্গু জেলার খাজিনা পুলিশ চৌকিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদীদের অতর্কিত হামলায় ১১ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ চলে, যাতে অন্তত ১৫ জন জঙ্গি খতম হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অত্যাধুনিক ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা খাজিনা পুলিশ পোস্টে অতর্কিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পথে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সাঁজোয়া গাড়ি লক্ষ্য করেও জঙ্গিরা গুলি চালায়। গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এক ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সন্দেহের তীর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) দিকে। সরকার টিটিপিকে ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে। গত কয়েক মাসে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় বারবার এই সংগঠনটির নাম উঠে আসছে।
হাঙ্গুর এই হামলার কয়েক দিন আগেই ট্যাঙ্ক জেলায় অন্য একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী প্রদেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জঙ্গিদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা পাকিস্তান প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের মাটি থেকে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান সরকার ও টিটিপির মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ওই অঞ্চলে জঙ্গি হামলার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। টিটিপি আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে বলে পাকিস্তান সরকার দীর্ঘসময় ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
