জেন জি আন্দোলনকারীদের ভাষা নিয়ে কঙ্গনার তীব্র সমালোচনার বিপরীতে সুরকার বিশাল দাদলানির কড়া বার্তা

বলিউডের জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক বিশাল দাদলানি এবার তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সুর চড়ালেন। সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বিশাল সাফ জানিয়েছেন, প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো অমানবিক নির্যাতনের দিকটি সবার আগে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইনস্টাগ্রামে এক ঝাঁঝালো পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, যারা রাজপথে তরুণদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে, গুলি চালিয়েছে এবং লাঠিচার্জ করেছে, সেই অপরাধীরাই মূলত অশালীন আচরণের জন্য দায়ী।

বিজ্ঞাপন

বিশাল দাদলানির মতে, তরুণ আন্দোলনকারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে বর্তমানে সংগঠিতভাবে পেইড ক্যাম্পেন ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, এসব প্রোপাগান্ডা চালিয়ে একটি গোষ্ঠী নিজেদেরই হাস্যকর করে তুলছে। তাঁর এই অবস্থান মুহূর্তের মধ্যেই নেটদুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এবং নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মূলত বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জের ধরেই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কঙ্গনা নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আন্দোলনকারীদের ভিডিও শেয়ার করে সেগুলোকে ‘বমি উদ্রেককারী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আন্দোলনকারীদের ‘জেনারেশন গাটার’ বা ‘আবর্জনার প্রজন্ম’ বলে কটাক্ষ করেন। কঙ্গনার দাবি, এই তরুণদের পড়াশোনা কিংবা সংসার চালানোর মতো নূন্যতম যোগ্যতা নেই। তাঁর এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, যেখানে নেটিজেনদের বড় একটি অংশ কঙ্গনার বিরুদ্ধে দেশের তরুণ প্রজন্মকে অপমান করার অভিযোগ তোলেন।

২০ জুলাই যন্তর মন্তরে আয়োজিত ‘সংসদ মার্চ’ কর্মসূচিকে ঘিরে এই উত্তাপের সূত্রপাত। সেই কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের ওপর হওয়া নিপীড়নের বিষয়টি আড়ালে চলে গেলেও কঙ্গনার কড়া সমালোচনা বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, কঙ্গনা প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে সরব হলেও পুলিশের নির্যাতনের বিষয়ে নীরব থেকে পক্ষপাতিত্ব করেছেন, আর সেই জায়গা থেকেই বিশাল দাদলানির জোরালো অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশাল দাদলানির এই মন্তব্যকে ঘিরে এখন সোশ্যাল মিডিয়া দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ তাঁর এই সংহতিকে তরুণদের কণ্ঠস্বর হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছেন, আবার অন্য পক্ষের দাবি, প্রতিবাদের ভাষা ও মার্জিত আচরণের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, রুপালি পর্দার তারকাদের এই বাগযুদ্ধ ও মতাদর্শের সংঘাত এখন বিনোদন জগতের গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক বিতর্কের অন্যতম বড় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

0%
0%
0%
0%