২৬-২৭ অর্থবছরে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সরকারের

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য খাত থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই লক্ষ্যমাত্রার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এসময় বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শীর্ষ রপ্তানিকারক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে এবার ১০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। আগের অর্থবছরের প্রকৃত রপ্তানি আয়ের ওপর ভিত্তি করে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিদায়ী বছরে পণ্য ও সেবা খাতে প্রত্যাশিত আয় অর্জিত হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিগত দুই বছরে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের প্রভাব এবং উন্নত দেশগুলোতে ভোগ কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।

রপ্তানি পণ্যের বাজারে অতি-নির্ভরশীলতা কমাতে সরকার বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বিকশিত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়াসহ পাঁচটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা কাটাতে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন এবং নতুন নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ অনুমোদনের জন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক হার অপরিবর্তিত থাকায় রপ্তানিতে নতুন কোনো ঝুঁকি নেই। তবে দেশের জ্বালানিখাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ রাতারাতি দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন সীমাবদ্ধতা থাকায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা ও সমন্বিত উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

0%
0%
0%
0%