আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যোগ দিতে ইলহান ওমরের প্রস্তাব, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতার মুখে বিচার ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর অবস্থানের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রোম সংবিধির অনুসমর্থন ও আইসিসিতে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমর। বুধবার উত্থাপিত এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তিনি আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এই আদালতকে ধাপে ধাপে ভেঙে ফেলার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার পরপরই ইলহান ওমরের এই পাল্টা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমালিয়ার সাবেক শরণার্থী ও বর্তমান মার্কিন আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের ভাষ্যমতে, বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন সুসংহত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার শক্তি বৃদ্ধি করা জরুরি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, মানবাধিকার ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে প্রমাণ করা যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই আইসিসির কার্যক্রমের তীব্র বিরোধী। বিশেষ করে মার্কিন ও ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওয়াশিংটন বরাবরই এই আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেউই রোম সংবিধির স্বাক্ষরকারী নয় এবং তারা এই আদালতের এখতিয়ারকে স্বীকৃতি দেয় না, তবুও গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ইসরায়েলি অভিযানকে জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একইসঙ্গে ২০০১ সালে আফগানিস্তান আগ্রাসনের সময়কার যুদ্ধাপরাধ ও গোপন বন্দিশালাগুলোর বিষয়েও আইসিসির তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কো রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসিকে অকার্যকর করতে সরকারি সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আওতায় আইসিসির সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ, মার্কিন সহায়তা প্রাপ্ত দেশগুলোর কাছে আইসিসির কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান এবং আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর আর্থিক জরিমানা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতে ২০২০ সালেও আফগানিস্তান তদন্তের জেরে আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা পরবর্তীতে জো বাইডেন প্রশাসন বাতিল করেছিল।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মানবাধিকার সংগঠন ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেছে। তাদের অভিযোগ, এই নিষেধাজ্ঞা সংবিধান প্রদত্ত মতপ্রকাশের অধিকার ও ন্যায়বিচারের পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। এমন জটিল প্রেক্ষাপটে ইলহান ওমরের প্রস্তাবটি মানবাধিকার রক্ষা এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি অবসানের দাবিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি রুবিওর ঘোষণাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বিচারের সুযোগ না থাকলে সহিংসতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়, যেখানে আইসিসিই ভুক্তভোগীদের শেষ আশ্রয়স্থল।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%