তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার মামলার অভিযোগ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের, আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ সাংসদ

রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলের প্রবীণ সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার একটি মামলার শুনানিকালে তিনি দাবি করেন, গত ৪ মে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৪ হাজার এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে কাউন্সিলরদের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তা না মানলে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
শ্রীরামপুর থানার অন্তর্গত শ্যাওড়াফুলি ও রিষড়া এলাকার পাঁচজন তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আর্জি নিয়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে শুনানি চলছিল। সওয়াল করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অনেক ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হলেও অভিযুক্তদের মামলার বিস্তারিত তথ্য পর্যন্ত জানানো হচ্ছে না। এত বিপুল সংখ্যক মামলা কীভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। ২০০৬-০৭ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে সাংসদ বলেন, তৎকালীন বিরোধীদের বিরুদ্ধেও এত মামলা দায়ের করা হয়নি।
আদালতের শুনানিকালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আগামী এক বছর তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া যে কোনো আইনি লড়াইয়ে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে অংশ নেবেন। দলীয় নেতাদের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুনানির সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষও ২০০৬-০৭ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন, যার উত্তরে সাংসদ বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতার দিকেই ইঙ্গিত করেন।
সাংসদের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই দাবিকে গুরুত্বহীন বলে খারিজ করে দিয়ে অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে। অন্যদিকে, বাম নেতা ও আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য দাবি করেন যে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত নিজের অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরেছেন এবং বর্তমান বাস্তবতাই আজ মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাজ্যে দুর্নীতি দমন তদন্ত এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই আইনি লড়াই এখন জনমানসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। হাইকোর্টে তোলা এই বিপুল সংখ্যক এফআইআর-এর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য প্রশাসন বা তদন্তকারী সংস্থাগুলো পরবর্তীতে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস