AdvertisementAdvertisement

কৃষিকে স্মার্ট ও প্রযুক্তিচালিত লাভজনক খাতে রূপান্তরে সরকারের মহাপরিকল্পনা

গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং যান্ত্রিকীকরণের সমন্বয়ে দেশের কৃষিখাতকে লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপকভিত্তিক বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিল্পে রূপান্তর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

কৃষিব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষক নিবন্ধন, কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদরের হালনাগাদ তথ্য এবং ই-এক্সটেনশন সেবার মতো আধুনিক প্ল্যাটফর্মগুলো চালু করা হয়েছে। সরকারি কৃষি সেবাকে তৃণমূলের কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় দেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত করার महत्त्वाকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং শ্রম সংকট নিরসনে কৃষি যান্ত্রিকীকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ড্রোন এবং স্যাটেলাইট তথ্যের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণের মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই নির্ণয় এবং সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা কৃষি উৎপাদনকে আরও বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকর করে তুলবে।

‘খামারি অ্যাপ’ চালুর মাধ্যমে কৃষকদের হাতের মুঠোয় কৃষি পরামর্শ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ স্থানীয় পর্যায়ে কোন ফসলের চাষ উপযোগী, তা সহজেই জানতে পারছেন কৃষক। একই সঙ্গে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে জৈব ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরের কাজ চলমান রয়েছে বলে সংসদ নেতা নিশ্চিত করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%