রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে খুনের ছক প্রেমিক যুগলের

রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তে নেমে পুনে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ছক সাজাতে অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী পূর্বের রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন ও তদন্তের খুঁটিনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, আগের মামলার ভুলত্রুটিগুলো বিশ্লেষণ করে তাঁরা এবারের অপরাধ আরও সুপরিকল্পিত ও নিখুঁতভাবে সংঘটিত করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, লোহাগড় দুর্গের যে দুর্গম স্থান থেকে কেতন আগরওয়ালকে নিচে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, সেটি কোনোভাবেই ট্রেকিংয়ের জন্য বিপজ্জনক পথ ছিল না। প্রথম থেকেই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছিল। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্তের মোড় ঘুরালে বেরিয়ে আসে, পাহাড়ের খাদে ফেলে দিয়ে ব্যবসায়ীকে খুনের পদ্ধতিটি হুবহু রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার অনুকরণে করা হয়েছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে যে, সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরী দুজনে মিলেই কেতনকে পাহাড়ের খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। সিয়া মনে করতেন, কেতনকে সরিয়ে দেওয়াই তাঁর আসন্ন বিবাহবন্ধন থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জটিলতার আড়ালে এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল চরম হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ, যেখানে অপরাধী নিজেদের পার পেয়ে যাওয়ার জন্য নিখুঁত অ্যালিবাই তৈরির চেষ্টাও করেছিলেন।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের ব্রাউজিং হিস্ট্রি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা হতবাক হয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে, সিয়া নিয়মিত রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার খবর রাখতেন এবং পুলিশি হেফাজতে থাকা নারী বন্দিদের আইনি অধিকার ও জিজ্ঞাসাবাদের ধরন নিয়ে ইন্টারনেটে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন। এসব আলামত প্রমাণ করে যে, অপরাধ সংঘটনের আগেই সম্ভাব্য আইনি পরিণতি ও প্রতিকার সম্পর্কে তিনি আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন।
গোয়াল পরিবারের বাড়ি থেকে জব্দ করা আরও একটি মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যা থেকে ষড়যন্ত্রের আরও গভীর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে পুলিশ আশাবাদী। বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা এই যুগলের মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি সমাজে ভুল বার্তা দিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজা রঘুবংশীর মা উমা রঘুবংশী।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস