হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিল করায় মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় সংকটের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক সাম্প্রতিক রায়ের প্রেক্ষিতে হাইতিসহ বেশ কিছু দেশের নাগরিকদের ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা টিপিএস বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাতে গভীর সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৫ জুন দেওয়া এই আদেশের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হাইতিয়ানদের আইনি অভিবাসন মর্যাদা প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত করেছে। এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার হাইতিয়ান নাগরিকের কাজের অনুমতি আগামী ১০ জুলাই শেষ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে তাদের নির্বাসনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিবাসন নিয়ে কঠোর নীতির অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করছে। তবে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে সতর্ক করেছেন যে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়োজিত বিশাল এক জনশক্তিকে সরিয়ে দিলে হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং প্রবীণ নিবাসগুলো অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হবে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক ললার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, টিপিএস সুবিধাভোগী হাইতিয়ানদের এক-তৃতীয়াংশই সরাসরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত, যাদের বহিষ্কার করা হলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিদেশি কর্মীদের মধ্যে ১৫ শতাংশই টিপিএস সুবিধাভোগী। মায়ামিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘আমেরিকানস ফর ইমিগ্র্যান্ট জাস্টিস’-এর তথ্যমতে, কেবল হাইতিয়ানরাই প্রায় ১৩ হাজার নার্সিং সহকারী হিসেবে ৬৫ হাজার রোগীকে সেবা দিয়ে আসছেন। এছাড়া অন্তত ৮ হাজার হাইতিয়ান সেবাকর্মী শিশু ও প্রবীণদের নিয়মিত দেখাশোনা করছেন। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক অধ্যাপক ডেভিড গ্রাবোস্কি মনে করেন, নার্সিং হোম ও দীর্ঘমেয়াদী সেবাকেন্দ্রগুলোতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী এবং ধ্বংসাত্মক।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আগে থেকেই তীব্র কর্মী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০৫০ সাল নাগাদ দেশটির ৬৫ বছরোর্ধ্ব জনসংখ্যার পরিমাণ ৫৮ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৮২ মিলিয়নে উন্নীত হবে, যা প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেকের বেশি নার্সিং হোম কর্মী সংকটের কারণে নতুন রোগী ভর্তি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. স্টেফি উলহ্যান্ডলারের মতে, এমনিতেই দেশটিতে সরাসরি সেবা দেওয়ার মতো কর্মীর অভাব রয়েছে, সেখানে বিদ্যমান কর্মীদের নির্বাসন দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য খাতে টিপিএস সুবিধাভোগীদের বিপুল উপস্থিতির কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কাজগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ এবং অনেক ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার চেয়ে সেবার মানসিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিশেষ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন এবং স্বল্প বেতনের এই কাজগুলো স্থানীয় কর্মীরা করতে আগ্রহী নন। এমতাবস্থায়, বিদ্যমান অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদী সেবা খাত এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন কেএফএফ-এর অভিবাসন স্বাস্থ্য নীতি পরিচালক দৃষ্টি পিল্লাই।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%