তিলোত্তমা হত্যায় ভিসেরা নমুনা পরিবর্তনের অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের দাবিতে আদালতে পরিবার

তিলোত্তমা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়ায় ফরেনসিক নমুনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। মৃতার পরিবারের কাছে পৌঁছানো এক প্রাক্তন ফরেনসিক কর্মকর্তার চিঠি অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের সময় সংগৃহীত গুরুত্বপূর্ণ ভিসেরা নমুনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বদলে ফেলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তিলোত্তমার লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তাতে কোনো বিষক্রিয়া বা ঘুমের ওষুধের উপস্থিতি ছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য ফরেনসিক বিভাগ থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর মধ্যবর্তী পর্যায়ে এই নমুনা কারচুপি করা হয়েছে।
এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসায় মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তিলোত্তমার পরিবার এই চিঠিটি শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের কাছে তাঁদের জোরালো আবেদন থাকবে যেন এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে দিয়ে পৃথক ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হয়। পরিবারের দাবি, প্রমাণের অসংগতি বা পরিবর্তনের মতো গুরুতর বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত না হলে ন্যায়বিচার সুদূরপরাহত হয়ে পড়বে।
চিঠিটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিভাগের তিনজন কর্মী অতীতেও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নিহত বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের ভিসেরা নমুনা নষ্ট করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নথি বা নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসেনি। তবে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুললেও রাজ্য প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গোটা পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে এখন শিয়ালদহ আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। আদালত যদি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়, তবে তিলোত্তমা হত্যা মামলার তদন্তে এটি এক নতুন মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে। একইসঙ্গে ফরেনসিক রিপোর্টের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার সুরাহা হওয়াও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বার্থে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
