বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির আবেদন খারিজ কলকাতা হাই কোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি নাকচ অভিষেকের

বিদেশে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার অনুমতির আবেদন নিয়ে ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও বিফল হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলেও, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, নির্ধারিত তালিকা মেনেই মামলার শুনানি হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদানের সুযোগ নেই।
সোমবার আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য দ্রুত শুনানির আবেদনটি উত্থাপন করেন। তবে বিচারপতি ভট্টাচার্য সেই আর্জি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানান, মামলাটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হবে এবং আদালতের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই শুনানির দিন ধার্য করা হবে। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেও একই ধরণের আবেদন জানানো হয়েছিল, যা সেবারও আদালত গুরুত্ব দেয়নি। হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, বর্তমানে মামলার অতিরিক্ত চাপের মধ্যে এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। সেই দুর্ঘটনার পর থেকে দেশে ও বিদেশে তাঁকে একাধিকবার চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আবারও বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। সাত দিনের বিদেশ সফরের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা।
আইনি সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রায় সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, বিভিন্ন বিচারাধীন মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে থাকায় তদন্ত সংক্রান্ত শর্তাবলি মেনে চলাই এখন প্রধান আইনি বাধ্যবাধকতা। সেই কারণেই আদালতের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। আদালতের সর্বশেষ অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই মামলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলাদাভাবে শোনার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এখন নির্ধারিত তালিকায় কবে মামলার শুনানি হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
