অরুণাচলে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত জনজীবন, নিখোঁজ ৯ সহ নিহত ৩

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের মেঘভাঙা বৃষ্টি ও অতি বর্ষণে বিপর্যস্ত ভারতের অরুণাচল প্রদেশ। লাগাতার বৃষ্টি ও একের পর এক ভূমিধসের ফলে রাজ্যটির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যার জেরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে একাধিক জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা। উদ্ধারকাজ চলাকালীন সোমবার প্রবল স্রোতে একটি নৌকা ভেসে গেলে অন্তত ৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া কেয়ি পাইয়র জেলায় আরও একটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় দুর্যোগে নিহতের সরকারি সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি বহনকারী নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও নদীর তীব্র স্রোত উদ্ধার অভিযানে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়ালেও প্রশাসন তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। অরুণাচলের কেয়ি পাইয়র, ইস্ট সিয়াং এবং লেপারাডা জেলাগুলো এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইস্ট সিয়াং জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জেলাটির অন্তত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভূমিধস ও ভাঙনের কারণে বন্ধ রয়েছে। পাসিঘাটকে পাঙ্গিন ও মেবো-দাম্বুক-বোমজিরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কসহ জাতীয় সড়ক-১৩-এর বিভিন্ন অংশে ধস ও পাথর পড়ার ফলে যানবাহন চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন আশঙ্কা করছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনেও অরুণাচলের বিভিন্ন জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকাজে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি ভারতের বিমানবাহিনীকেও যুক্ত করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
