জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে জোর দিল চীন ও পাকিস্তান

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবনার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে একটি আরিয়া-ফর্মুলা সভার আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সভায় বৈশ্বিক সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের গুরুত্ব নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিশদ আলোচনা হয়েছে।
‘বাস্তবায়নের ব্যবধান দূরীকরণ: নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা’ শীর্ষক এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান সংঘাত নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করা। সভায় অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে তা উত্তরণের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ সভায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাগুলো কেবল রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং জাতিসংঘের সনদের অধীনে এগুলো আইনত বাধ্যতামূলক বাধ্যবাধকতা। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রস্তাবনার বাছাইকৃত বাস্তবায়ন বা দীর্ঘস্থায়ী নিষ্ক্রিয়তা নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্বকে ক্ষুণ্ণ করে, যা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি মানবিক বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা জম্মু-কাশ্মীর এবং ফিলিস্তিন ইস্যুর উদাহরণ টেনে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই এই সংকটগুলোকে জিইয়ে রেখেছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের প্রস্তাবনা কার্যকর না হওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিরোধ অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর পড়ছে এবং কাশ্মীরি জনগণের দুর্দশা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
এই যৌথ আয়োজনের মাধ্যমে পাকিস্তান ও চীন বহুপাক্ষিকবাদ এবং জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতি ও আদর্শের প্রতি তাদের অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্ব সমুন্নত রাখতে এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার প্রক্রিয়ায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে উভয় দেশই তাদের অঙ্গীকারের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ
