Infinix Hot 60i
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- প্রিমিয়াম এবং স্টাইলিশ ডিজাইন।
- ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট ও ম্যাজিক রিং ফিচার।
- ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও টাইপ-সি পোর্ট।
- ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা।
- ৩২ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা (বাজেট সেরা)।
- সাইড মাউন্টেড ফাস্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।
- চার্জিং গতি ধীর (১৮ ওয়াট)।
- ডিসপ্লের রেজোলিউশন ৭২০পি (ফুল এইচডি নয়)।
- গেমিং পারফর্মেন্স সাধারণ মানের।
- প্রচুর ব্লোটওয়্যার অ্যাপ।
বিস্তারিত
Infinix Hot 60i market price in Bangladesh is ১৪,৯৯৯ টাকা। বাংলাদেশের বাজেট স্মার্টফোনের বাজারে ইনফিনিক্স তাদের ‘হট’ সিরিজের মাধ্যমে বরাবরই তরুণ প্রজন্মের মন জয় করে আসছে। বিশেষ করে যারা পনেরো হাজার টাকার নিচে ভালো ডিজাইন, পর্যাপ্ত র্যাম এবং সন্তোষজনক ব্যাটারি লাইফ খুঁজছেন, তাদের জন্য ‘আই’ (i) সিরিজের ফোনগুলো সব সময় তালিকার শীর্ষে থাকে।
ইনফিনিক্স হট ৬০আই এই সিরিজের সর্বশেষ সংযোজন, যা তার পূর্বসূরিদের তুলনায় ডিজাইনে এবং পারফর্মেন্সে বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে বাজারে এসেছে। আজকের এই পর্যালোচনায় আমরা দেখব, আসলেই কি এই ফোনটি বাজেট সেগমেন্টে রাজত্ব করতে পারবে, নাকি এটি শুধুই সংখ্যার পরিবর্তন। ডিজাইন থেকে শুরু করে ক্যামেরা, ডিসপ্লে এবং হার্ডওয়্যার—সবকিছু নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি Infinix Hot 60i এর ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ এক কথায় প্রিমিয়াম। ফোনটি হাতে নিলেই মনে হবে না যে এটি একটি এন্ট্রি লেভেল বা বাজেট ডিভাইস। এর পেছনের প্যানেলে ব্যবহার করা হয়েছে গ্লসি এবং ম্যাট ফিনিশের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ, যা আলোর প্রতিফলনে চমৎকার দেখায়। ইনফিনিক্স ক্যামেরা মডিউলের ডিজাইনে অ্যাপলের প্রো মডেলগুলোর কিছুটা অনুপ্রেরণা নিয়েছে, যা এই বাজেটের গ্রাহকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। পেছনের অংশে স্কয়ার শেপের ক্যামেরা আইল্যানে লেন্সগুলোর বিন্যাস ফোনটিকে একটি ক্লিন এবং মডার্ন লুক দিয়েছে।
ফোনটির বডি এবং ফ্রেম সম্পূর্ণ প্লাস্টিকের বা পলিকার্বোনেটের তৈরি। তবে ফিনিশিং এতটাই ভালো যে দূর থেকে দেখলে মেটাল বা গ্লাস মনে হতে পারে। ফোনের ফ্রেমটি ফ্ল্যাট বা সমতল, যা বর্তমান ট্রেন্ডের সাথে মানানসই এবং হাতে গ্রিপ করতে বেশ সুবিধা হয়। ডান পাশে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম রকার বাটনগুলোর অবস্থান এমনভাবে ঠিক করা হয়েছে যেন এক হাতে ব্যবহারের সময় আঙুল সহজেই পৌঁছাতে পারে।
পাওয়ার বাটনের সাথেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি ইন্টিগ্রেট করা হয়েছে, যা বেশ ফাস্ট কাজ করে। বাম পাশে সিম ট্রে রয়েছে, যেখানে দুটি সিম এবং একটি মাইক্রো এসডি কার্ড একই সাথে ব্যবহার করার সুবিধা আছে। নিচের অংশে টাইপ-সি পোর্ট, স্পিকার গ্রিল এবং ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক রাখা হয়েছে। ওজনে হালকা হওয়ার কারণে দীর্ঘক্ষণ এক হাতে ব্যবহার করলেও কোনো ক্লান্তি অনুভূত হয় না।
ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা এই ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৬ ইঞ্চির একটি আইপিএস এলসিডি প্যানেল। বাজেট কমাতে গিয়ে ইনফিনিক্স এখানে রেজোলিউশনে কিছুটা ছাড় দিয়েছে, কারণ এটি একটি এইচডি প্লাস (৭২০ x ১৬১২ পিক্সেল) ডিসপ্লে। বর্তমান সময়ে অনেকেই হয়তো ফুল এইচডি আশা করেন, কিন্তু ব্যাটারি সাশ্রয় এবং পারফর্মেন্স ঠিক রাখতে এই রেজোলিউশনটি এই প্রসেসরের সাথে ভালো মানায়।
তবে ইনফিনিক্স রিফ্রেশ রেটের ক্ষেত্রে কার্পণ্য করেনি। এতে ৯০ হার্টজ (কিছু ভেরিয়েন্টে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত হতে পারে) রিফ্রেশ রেট ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ইউজার ইন্টারফেস স্ক্রল করা, সোশ্যাল মিডিয়া ফিড দেখা বা অ্যাপ ড্রয়ার ওপেন করার অভিজ্ঞতা বেশ মসৃণ। ডিসপ্লের ব্রাইটনেস ৫০০ নিটস, যা ঘরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত হলেও কড়া রোদে কিছুটা কম মনে হতে পারে। ইনফিনিক্স তাদের জনপ্রিয় “ম্যাজিক রিং” ফিচারটি এখানেও রেখেছে। এটি ডিসপ্লের ওপরের পাঞ্চ-হোল নচের আশেপাশে কাজ করে, যা ফেস আনলক, চার্জিং স্ট্যাটাস বা কলের সময় একটি সুন্দর অ্যানিমেশন তৈরি করে। ডিসপ্লের কালার রিপ্রোডাকশন বাজেট অনুযায়ী ঠিকঠাক, ইউটিউবে ভিডিও দেখার সময় কালারগুলো বেশ পাচি এবং উজ্জ্বল দেখায়।
পারফর্মেন্স ও হার্ডওয়্যার Infinix Hot 60i এর পারফর্মেন্স বিভাগে রয়েছে এন্ট্রি লেভেল চিপসেট। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইউনিসক টি৬০৬ (Unisoc T606) অথবা মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ (Helio G81) প্রসেসর (অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে)। এটি একটি অক্টা-কোর প্রসেসর যা দৈনন্দিন সাধারণ কাজগুলো সামলানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো বা সাধারণ ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য এই প্রসেসরটি যথেষ্ট। ফোনটিতে ৪ জিবি বা ৮ জিবি র্যামের অপশন রয়েছে।
মেমোরি ফিউশন বা ভার্চুয়াল র্যাম প্রযুক্তির মাধ্যমে র্যাম আরও বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব, যা মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় অ্যাপ রিলোড হওয়া কিছুটা কমায়। তবে গেমিংয়ের ক্ষেত্রে এই ফোনটি থেকে খুব বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবে না। ফ্রি ফায়ার বা পাবজির মতো গেমগুলো লো গ্রাফিক্স সেটিংসে খেলা সম্ভব, কিন্তু হাই গ্রাফিক্স বা হাই ফ্রেম রেটে খেলতে গেলে ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ দেখা দিতে পারে। সাবওয়ে সার্ফার, ক্যান্ডি ক্রাশ বা লুডুর মতো ক্যাজুয়াল গেমগুলো এতে খুব সুন্দরভাবে চলে। দীর্ঘক্ষণ ভারি কাজ করলে ফোনটি ক্যামেরা মডিউলের আশেপাশে সামান্য গরম হতে পারে।
সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৪ ভিত্তিক এক্সওএস ১৪ (XOS 14) ইন্টারফেসে চলে। ইনফিনিক্সের সফটওয়্যারে আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। ইন্টারফেসটি বেশ কালারফুল এবং এতে প্রচুর কাস্টমাইজেশন অপশন রয়েছে। থিম স্টোর থেকে আপনি পছন্দমতো থিম, ফন্ট এবং ওয়ালপেপার ডাউনলোড করতে পারবেন।
স্মার্ট প্যানেল, জেশ্চার নেভিগেশন এবং গেম মোডের মতো ফিচারগুলো ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে সহজ করে তোলে। তবে ইনফিনিক্সের ফোনে একটি সাধারণ সমস্যা হলো ব্লোটওয়্যার বা প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপ। ফোনটি প্রথমবার চালু করার পর বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ দেখা যায়, যা মাঝেমধ্যে নোটিফিকেশন পাঠিয়ে বিরক্ত করতে পারে। তবে এর মধ্যে অনেকগুলো অ্যাপ আনইনস্টল বা ডিজেবল করার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ ব্যবহারে সফটওয়্যারটি বেশ স্মুথ এবং রেস্পন্সিভ।
ক্যামেরা সেকশন বাজেট ফোনের ক্যামেরা নিয়ে সাধারণত খুব বেশি উচ্চাশা থাকে না, তবে Infinix Hot 60i এখানে সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে আছে। ফোনের পেছনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং একটি সেকেন্ডারি এআই লেন্স। দিনের পর্যাপ্ত আলোতে প্রধান ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো বেশ পরিষ্কার এবং ডিটেইলড হয়। ইনফিনিক্সের কালার প্রসেসিং ছবিগুলোকে কিছুটা বুস্ট করে, ফলে ছবিগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এবং সোশ্যাল মিডিয়া রেডি মনে হয়।
এইচডিআর মোড অন থাকলে ছবির ডাইনামিক রেঞ্জ কিছুটা ভালো পাওয়া যায়। পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার মোটামুটি ভালো কাজ করে। তবে কম আলোতে বা রাতে ছবি তোলার সময় ক্যামেরার সীমাবদ্ধতা বোঝা যায়। ছবিতে নয়েজ বা গ্রেইন ভাব থাকে এবং ফোকাস করতে কিছুটা সময় নেয়। নাইট মোড ব্যবহার করলে ছবি কিছুটা উজ্জ্বল হয়। সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের (অথবা ৮ মেগাপিক্সেল, ভেরিয়েন্ট ভেদে) ক্যামেরা। ইনফিনিক্স সাধারণত সেলফি ক্যামেরায় ভালো করে থাকে। সামনে ফ্ল্যাশলাইট থাকার কারণে অন্ধকারেও ভিডিও কল বা সেলফি তোলা সম্ভব। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এটি ১০৮০পি ৩০ এফপিএস সাপোর্ট করে, তবে কোনো স্ট্যাবিলাইজেশন না থাকায় ভিডিও কিছুটা কাঁপতে পারে।
ব্যাটারি ও চার্জিং ব্যাটারি লাইফের দিক থেকে Infinix Hot 60i একটি নির্ভরযোগ্য ডিভাইস। এতে রয়েছে ৫০০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি। এইচডি প্লাস ডিসপ্লে এবং কম পাওয়ারের প্রসেসর হওয়ার কারণে ব্যাটারি খরচ খুব কম হয়। সাধারণ ব্যবহারে এক চার্জে অনায়াসেই দেড় দিন পার করে দেওয়া সম্ভব। যারা খুব বেশি ফোন ব্যবহার করেন না, তাদের ক্ষেত্রে এটি দুই দিনও যেতে পারে। তবে চার্জিং স্পিড নিয়ে কিছুটা আপস করতে হবে। বক্সে ১৮ ওয়াটের চার্জার দেওয়া হয়েছে। ৫০০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে প্রায় ২ ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি সময় লাগতে পারে। বর্তমান ফাস্ট চার্জিংয়ের যুগে এটি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে, তবে টাইপ-সি পোর্ট থাকায় চার্জিং ক্যাবল নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই।
অডিও ও কানেক্টিভিটি ফোনটিতে একটি সিঙ্গেল লাউডস্পিকার রয়েছে। স্পিকারের সাউন্ড বেশ লাউড, তবে হাই ভলিউমে কিছুটা নয়েজ শোনা যেতে পারে। হেডফোন জ্যাক থাকায় আপনি আপনার পছন্দের ইয়ারফোন ব্যবহার করে ভালো অডিও অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। কানেক্টিভিটির জন্য এতে ডুয়েল সিম ৪জি সাপোর্ট, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ এবং জিপিএস সুবিধা রয়েছে। কল কোয়ালিটি বেশ পরিষ্কার এবং নেটওয়ার্ক রিসিপশন শক্তিশালী। এফএম রেডিও চালানোর জন্য ইয়ারফোন কানেক্ট করার প্রয়োজন হতে পারে।
নিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তার জন্য এতে সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে, যা পাওয়ার বাটনের সাথে যুক্ত। সেন্সরটি বেশ ফাস্ট এবং একুরেট। আঙুল ছোঁয়ানোর সাথে সাথেই ফোন আনলক হয়ে যায়। এছাড়া ফেস আনলক সুবিধাও রয়েছে, যা দিনের আলোতে ভালো কাজ করে।
সব মিলিয়ে, Infinix Hot 60i তাদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ যারা খুব বেশি টাকা খরচ না করে একটি স্টাইলিশ এবং আপ-টু-ডেট ডিভাইস খুঁজছেন। এর ডিজাইন, ব্যাটারি লাইফ এবং ৯০ হার্টজ ডিসপ্লে একে বাজারের অন্যান্য ফোন থেকে আলাদা করেছে। যদিও চার্জিং স্পিড এবং ডিসপ্লে রেজোলিউশনে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে, তবুও ১৪-১৫ হাজার টাকা বাজেটে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা কঠিন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী এবং তরুণদের জন্য এটি একটি ভালো পছন্দ হতে পারে।