তৃণমূল ভাঙার হুঙ্কার বিদ্রোহী সাংসদদের, জুলাইয়ে দল দখলের দাবি সুদীপের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দলটির বিদ্রোহী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, জুলাই মাস নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ। দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তিনি এবং তাঁর অনুসারী সাংসদরা ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) নামক একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাদের সঙ্গে বর্তমানে দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ রয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলটির মালিকানা দাবি করা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে জুলাই মাসে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাবেন এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে তাদের একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, নির্বাচিত ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদাভাবে বসার আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন। আগামী দিনে তারা ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তবে যে এনসিপিআই-এর ওপর ভরসা রেখে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলবদলের পরিকল্পনা করছে, তার সাংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। নির্বাচন কমিশনের নথিতে এটি একটি ‘নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল’ হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিলেও রাজ্য বা জাতীয় দলের কোনো স্বীকৃতি তাদের নেই। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই দলটির উপস্থিতি নগণ্য; ফেসবুক পেজে তাদের অনুসরণকারীর সংখ্যা মাত্র ৭৪ জন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় অখ্যাত এবং কোনো স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীকহীন এই দলের আশ্রয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এই রাজনৈতিক অবস্থান বদল রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এনসিপিআই-এর কোনো আনুষ্ঠানিক তৎপরতাও জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমন একটি দলের ব্যানারে তৃণমূলের মতো প্রতিষ্ঠিত দলের সংসদীয় কাঠামো পরিবর্তনের এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত কতটা আইনি বৈধতা পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
