লাইসেন্স বাতিল হওয়া আদ্-দ্বীন হাসপাতালের রোগীদের ছয় সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের প্রেক্ষাপটে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেশের ছয়টি সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গত শুক্রবার অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। জনস্বার্থে এবং রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
নির্ধারিত ছয়টি হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব রোগীকে তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ঈদুল আজহার আগের দিন ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতালের চরম অবহেলার প্রমাণ পায়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালটির ভবন পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ছিল না এবং সঠিক ভেন্টিলেশন ও এসি ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে অক্সিজেনের ঘাটতি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের আধিক্য দেখা দিয়েছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় কক্ষটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল এবং নবজাতকদের সংকটাপন্ন অবস্থায় কোনো চিকিৎসক বা জরুরি মেডিকেল রেসপন্স টিম উপস্থিত ছিল না। সেবিকাদের চরম অবহেলা ও অসহযোগিতার বিষয়টিও তদন্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে গঠিত এই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ এ কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
লাইসেন্স বাতিল হওয়ার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘনের দায়ে তাদের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১১ জুনের স্মারক অনুযায়ী হাসপাতালটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতের বিশৃঙ্খলা রোধে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
