রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে কুকুরের অবাধ বিচরণ ও চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও এর আশপাশের এলাকায় কুকুরের অবাধ বিচরণ এবং চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে কুকুরের এমন আনাগোনা স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শুধু আইসিইউ নয়, শিশু ওয়ার্ড, হৃদরোগ বিভাগ ও অর্থোসার্জারি বিভাগের সামনের দৃশ্যপটও একই রকম ভয়াবহ।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল চত্বর জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও মেডিকেল বর্জ্যের দুর্গন্ধে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ওয়ার্ডগুলোর পাশে ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও জনসচেতনতার অভাব এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। নীলফামারীর জলঢাকা থেকে আসা মমিনুর রহমানের স্বজন শহিদুল হক জানান, আইসিইউর সামনে অপেক্ষারত স্বজনরা কুকুরের ভয়ে তটস্থ থাকেন, পাশাপাশি অসহনীয় দুর্গন্ধে রোগীদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে।

দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতালে জনবল কাঠামো বাড়েনি। ২০১০ সালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও এখনো ৬০০ শয্যার জনবল দিয়েই প্রায় তিন হাজার রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে, যা এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, হাসপাতালের বাইরের বর্জ্য অপসারণে রংপুর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার কথা থাকলেও তাদেরও জনবল ঘাটতি রয়েছে। তবে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার অভিযোগটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানিয়েছেন, মেডিকেল বর্জ্য অপসারণে তাদের আলাদা ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা চাইলে সিটি করপোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং তারেক রহমানের নির্দেশিত উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

0%
0%
0%
0%