AdvertisementAdvertisement

অফিস চলাকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিতর্কে ওসমানীনগরের ইউএনও মুনমুন নাহার আশা

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে আলোচিত এই কর্মকর্তা এবার খোদ উপজেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে ব্যক্তিগত সুরক্ষার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলন নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত কর্মচারী আব্দুল মান্নানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। আব্দুল মান্নানের দাবি, তাকে ‘আপা’ সম্বোধন করার অপরাধে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা তাকে জেল-জরিমানা ও চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়েছিলেন। আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার সময় শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত না থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এরপরও ইউএনও তাকে জেলের ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা প্রশাসনের অন্য কোনো দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এই আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ব্যক্তিগত বিষয়ের জন্য সরকারি দপ্তরকে ব্যবহার করার বৈধতা কতটুকু।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউএনও দাবি করেন, কোম্পানি তাদের কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে, তা মোবাইল কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে শাখা ব্যবস্থাপকের উপস্থিতিতে কেন আব্দুল মান্নানকে জরিমানা ও স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয়েছিল, তার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। তিনি স্বীকার করেন যে আব্দুল মান্নান তার চাকরি রক্ষা ও জরিমানা কমাতে কার্যালয়ে এসেছিলেন, কিন্তু জরিমানা মওকুফের কোনো সুযোগ ছিল না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অফিস চলাকালীন সংবাদ সম্মেলন আয়োজন এবং আনীত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও মুনমুন নাহার আশার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। একই বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুশাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় স্থানীয়রা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%