ফরাসি নৌবহর কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি আচরণের তদন্ত শুরু করবে ফ্রান্সের সরকারি কৌঁসুলি

গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানকালে আটক ফরাসি নাগরিকদের ওপর যৌন নির্যাতন, মারধর ও অবমাননাকর আচরণের অভিযোগের তদন্ত শুরু করতে রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলিদের নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো। তুরস্কের মারমারিস বন্দর থেকে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সমুদ্র ফ্লোটিলা’ নামক এই ত্রাণবহরের ওপর গত ১৯ মে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের পর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো সামনে আসে। বারো জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যে এসব কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ফ্রান্স ইন্টার নামের একটি রেডিও স্টেশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তুরস্কে নিযুক্ত ফরাসি কনসাল জেনারেলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আটক ফরাসি নাগরিকদের ভাষ্যমতে, তাদের চরম সহিংসতা, অসহ্য শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রাখা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইসরায়েলের আরোপিত গাজা অবরোধকে জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো অবৈধ ও সম্মিলিত শাস্তির একটি রূপ হিসেবে গণ্য করে আসছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বরাবরই ফরাসি কর্মীদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে আটক অন্তত ৩৭ জন ফরাসি নাগরিকের বর্ণনায় উঠে এসেছে অমানবিক নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র। এদের মধ্যে মরিয়ম হাজাল নামের এক নারী অভিযোগ করেছেন যে, অন্ধকার কনটেইনারে বন্দি থাকাকালে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে এবং তিনি ধর্ষণের আতঙ্ক অনুভব করেছেন। আদ্রিয়ান জোয়ান নামে অন্য এক কর্মী দাবি করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাকে বেধড়ক প্রহার করেছে এবং বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন অশ্বেতাঙ্গ বন্দিরা।
আদালাহ নামক একটি মানবাধিকার আইনি সংস্থার পরিচালক সুহাদ বিশারা আল-জাজিরাকে জানান, গত ১০ বছরের মধ্যে এটি ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর চালানো সবচেয়ে গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা, যা সরাসরি নির্যাতনের সংজ্ঞায় পড়ে। এদিকে, গ্লোবাল সমুদ্র ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা অন্তত ১৫টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ভুক্তভোগী ফরাসি কর্মীদের আইনজীবীরা পৃথকভাবে ধর্ষণ, নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলের উগ্রপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর ফ্রান্সে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ফ্লোটিলা কর্মীদের চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে মাটিতে ফেলে বিদ্রূপাত্মক ভিডিও প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর অবস্থান নেয় প্যারিস। যদিও ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অনেকেই দেশটিকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তবে ফরাসি নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় তেল আবিবের ওপর কূটনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
