দক্ষিণ আফ্রিকায় সহিংসতার শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন হাজারো মালাওয়ানি প্রবাসী

দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান বিদেশি বিদ্বেষী সহিংসতার মুখে পড়ে নিজ দেশ মালাবিতে ফিরছেন হাজার হাজার প্রবাসী। দারিদ্র্য জয়ের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো এই মানুষগুলো এখন সর্বস্ব হারিয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন মাতৃভূমিতে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার অস্থিরতা ও অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে মালাবির সাধারণ নাগরিকদের এই গণপ্রত্যাবর্তন তাদের অভিবাসন জীবনের চরম মূল্য ও দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

লুচেনজা এলাকার বাসিন্দা সাতাইশ বছর বয়সী জানেট কাপিতো দুই বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন নিজের একটি ঘর তৈরির স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেখানে চলমান সহিংসতা ও লুটপাটের শিকার হয়ে আট মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে এখন তিনি নিজ গ্রামে ফিরেছেন। ফেরার পথেও লুণ্ঠিত হয়েছে তার সম্বল। কাপিতো জানান, অস্থিরতার সময় ঘরবন্দি থাকায় কাজ করতে পারেননি, ফলে উপার্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। কামুযু স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর তিনি সরকারি সহায়তা হিসেবে মাত্র ৭০ হাজার মালাবিয়ান কোয়াচা বা প্রায় ৪০ ডলার পেয়েছেন, যা দিয়ে ভবিষ্যতের অনিশ্চিত দিনগুলো পার করা অত্যন্ত দুরূহ।

মালাবির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্যমতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ১০ হাজার মালাবিয়ান নাগরিক চরম সংকটের মধ্যে রয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৩৬ জন নাগরিক দেশে ফিরে এসেছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৫ হাজার ১৬২ জন মালাবিয়ান নাগরিককে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন, কিন্তু কোভিডের লকডাউন ও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই ঋণের বোঝা এখন তাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

প্রত্যাগতদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, রাতে হঠাৎ করেই তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রাণ বাঁচাতে তারা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। তেয়োলো জেলার ৩৩ বছর বয়সী থোকোজানি মফোলা জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার রাস্তায় বিদেশি নাগরিকদের ওপর নৃশংস হামলা তাকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। তিনি বলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে এবং নিজের মাতৃভূমিতে মরার আশায় তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। এখন সামান্য পুঁজি জোগাড় করে ছোট কোনো ব্যবসা শুরু করাই তার একমাত্র লক্ষ্য।

জোহানেসবার্গে নিজের বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ইদ্রিসাহ আকিলেমু বলেন, এটি কোনো বিক্ষোভ ছিল না, ছিল সরাসরি যুদ্ধ। রাতে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে সব কেড়ে নেওয়ায় এখন নবজাতকের মতো নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। তবে অনেক প্রবাসীই সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাইছেন না। অভিবাসন পরবর্তী জীবনে পুনরায় সমাজে মানিয়ে নেওয়া তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও হাজার হাজার প্রবাসী মালাবিতে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%