লুইজিয়ানা গুলিবর্ষণে তিন সন্তানহারা মা গুলিবিদ্ধ, মুখে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে

লুইজিয়ানায় গত সপ্তাহান্তে এক মর্মান্তিক গুলিবর্ষণে নিহত তিন শিশুর জননী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, তার মুখমন্ডলে এখনো একটি গুলি আটকে আছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার ভোরের দিকে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। শ্রিভপোর্ট শহরে এক বন্দুকধারী তার পরিবারের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে দুই নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী জামার্কাস স্নো এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজন তার আত্মীয়, ক্রিস্টিনা স্নো। পুলিশ এটিকে একটি “হিংসাত্মক পারিবারিক ঘটনা” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ঘটনায়31 বছর বয়সী শামার এলকিন্স আটটি শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছেন, যাদের মধ্যে সাতজন তার নিজের সন্তান এবং একজন তার চাচাতো ভাই।

কাডো প্যারিশ করোনাভাইরের কার্যালয় সোমবার নিহত শিশুদের নাম প্রকাশ করে। তারা হলো: জায়লা এলকিন্স (তিন), শায়লা এলকিন্স (পাঁচ), কায়লা পাফ (ছয়), লেলা পাফ (ছয়), মার্কোডন পাফ (১০), সারিয়াহ স্নো (১১), খেডারিয়ন স্নো (ছয়) এবং ব্রেলন স্নো (পাঁচ)।

বিজ্ঞাপন

জামার্কাস স্নো জানিয়েছেন, ক্রিস্টিনার মা তাকে বলেছেন যে গুলিটি তার নাক দিয়ে প্রবেশ করেছে এবং এখনো মুখেই আটকে আছে। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ এতে ঝুঁকি বাড়তে পারে। জামার্কাস আরও জানান, তিনি শুনেছেন ক্রিস্টিনা কথা বলতে পারলেও স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে।

অন্য যে নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তিনি হলেন এলকিন্সের স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী শেনাইকোয়া পাফ। তিনিও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। ক্রিস্টিনা তার সন্তানদের নিয়েই জীবন অতিবাহিত করতেন এবং তাদের নিয়েই কথা বলতেন, যা এই ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে বন্দুকধারী এলকিন্স। সাবেক ন্যাশনাল গার্ডস সদস্য এলকিন্সের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত একটি মামলা ছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি আত্মহত্যার কথাও বলেছিলেন। এলকিন্স ও পাফ তাদের বিচ্ছেদ নিয়ে আদালতে যাওয়ার কথা ছিল।

এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। মঙ্গলবার, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ লুইজিয়ানায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার কাছে ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি ছিল বলে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে “অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং ফেডারেল এজেন্টদের মিথ্যা তথ্য দেওয়া”র অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তি প্রথমে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কথা অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে। সে জানিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রটি সে তার আসনের নিচে রাখত এবং এলকিন্স সেটি নিয়ে গিয়েছিল বলে সে ধারণা করে।

এই ঘটনাটি গত দুই বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ভয়াবহ গণ-হত্যার ঘটনা।

তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

0%
0%
0%
0%