লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নতুন করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে নতুন করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরপরই শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন। আলোচনায় রুবিও জোর দিয়ে বলেছেন, লেবাননের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা বন্ধের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাই একমাত্র কার্যকর পথ। আগামী ২৩ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে দুই দেশের সরকার দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা চালাবে।
গত এপ্রিল মাসে ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশ সরাসরি আলোচনায় বসেছিল। জুনের পরবর্তী আলোচনার পর দুই পক্ষই সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু হিজবুল্লাহর সম্পৃক্ততা না থাকায় সেই আলোচনার তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। উল্টো সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বেড়েছে। গত মধ্যরাতের পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন সমর্থিত একটি রোডম্যাপ অনুযায়ী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে লেবানন সরকার। পাশাপাশি বৈরুত লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে জুনের চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে লিটানি নদীর উত্তরে সরে যাওয়ার কথা বলা হলেও, ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের কোনো সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে। তবে চলমান সহিংসতা এই সমঝোতাকে বারংবার বাধাগ্রস্ত করছে, যা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রতি বিরল অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অঞ্চলটিতে স্থায়ী যুদ্ধের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ তুলেছেন।