AdvertisementAdvertisement

পাকিস্তান-কুয়েত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যমত

ইসলামাবাদে গত বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ এবং ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সভায় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার ছাড়াও দেশটির প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও পেট্রোলিয়াম বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বৈঠকের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ। পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশটিকে একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি কুয়েতসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর যেকোনো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান সব সময় ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর পাশে রয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কুয়েতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এ সময় তিনি কুয়েতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী পাকিস্তানিদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন এবং কুয়েত সরকারকে অভিবাসীদের প্রতি সদয় আচরণের জন্য ধন্যবাদ জানান।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ আঞ্চলিক সংকট নিরসনে পাকিস্তানর গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে সংকট উত্তরণে পাকিস্তানর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, উপপ্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। কঠিন সময়ে পাকিস্তানের অকুন্ঠ সমর্থন ও সংহতির জন্য কুয়েতের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

দুই পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বিনিময়ের মাধ্যমে চলমান এই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%