২৯ আগস্টের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) দেশের নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। নির্বাচন আইন ২০১৭-এর বিধান অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে দলগুলোকে তাদের আয়-ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ‘ফরম-ডি’ আকারে দাখিল করতে হবে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের ভিত্তিতে এই আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মাধ্যমে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে দলের প্রধানকে একটি সনদপত্র প্রদান করতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে দলটি কোনো বিদেশি সরকার, বহুজাতিক কোম্পানি কিংবা দেশীয় কোনো নিষিদ্ধ উৎস থেকে অর্থায়ন গ্রহণ করেনি। নির্বাচন আইনের পরিপন্থী যেকোনো উৎস থেকে তহবিল প্রাপ্তি যে নিষিদ্ধ, তা পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে কমিশন।

আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ফরম-ডি’-তে কোনো ধরনের কাটাকাটি, ঘষামাজা কিংবা অস্পষ্টতা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে কমিশন সতর্কতা জারি করেছে। দলগুলোকে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়কালের পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক বিবরণীও আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। ডাকযোগে, কুরিয়ার সেবায় কিংবা ফ্যাক্স বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এই নথি পাঠানো যাবে না; বরং দলের মনোনীত প্রতিনিধিকে সশরীরে নির্বাচন কমিশনের সচিবের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এসব নথিপত্র জমা দিতে হবে।

নির্বাচন আইন ২০১৭-এর ২১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য অর্থবছর শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হলে দলের নিবন্ধন এবং নির্বাচন করার সক্ষমতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ

0%
0%
0%
0%