পরিচ্ছন্ন গণশৌচাগার ব্যবহার নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার, লাহোর হাইকোর্টের রায়

পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট বা গণশৌচাগারের ব্যবহারকে প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সার্বিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার বেহাল দশায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি রাহিল কামরান শেখ এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেছেন। জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিজম প্যানেলের প্রধান আজহার সিদ্দিকীর দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশনা দেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অকেজো ও ক্ষতিগ্রস্ত শৌচাগারগুলো অবিলম্বে সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবের স্থানীয় সরকার সচিবকে প্রতিটি শহর, গ্রাম, জেলা এবং তহসিল পর্যায়ে বিদ্যমান শৌচাগারের হালনাগাদ তথ্য এবং জনসংখ্যার চাহিদার বিপরীতে এগুলোর পর্যাপ্ততা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি রাহিল কামরান শেখ পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, মৌলিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানে যেকোনো ধরনের গাফিলতি অগ্রহণযোগ্য। রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সুস্থ পরিবেশ প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক ও সুবিধাজনক শৌচাগার নির্মাণ রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
পাঞ্জাব প্রদেশের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমানে প্রদেশটিতে ১,৪২০টি গণশৌচাগার থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এর ওপর ১২৭টি শৌচাগার বর্তমানে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছেছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য মাত্র ১০টি এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য মাত্র ৫টি শৌচাগার থাকার বিষয়টি অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছে আদালত।
এছাড়াও, আরও ৭০২টি গণশৌচাগার নির্মাণের প্রস্তাবিত প্রকল্পটির বিষয়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ৯২৮ মিলিয়ন রুপির বেশি বাজেটের এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন না করায় প্রতিবেদনটিকে অসম্পূর্ণ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। লাহোর হাইকোর্ট পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে, গণশৌচাগার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখা সরকারের অপরিহার্য দায়িত্ব এবং এই সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ