ঘৃণাবিদ্বেষ রুখতে আলেম ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি রাষ্ট্রপতি জারদারির আহ্বান

আন্তর্জাতিক ঘৃণ্য বক্তব্য প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এক বার্তায় ধর্মীয় আলেম, শিক্ষাবিদ, সংবাদমাধ্যম এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি ঘৃণামূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য রোধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা, সচেতনতা এবং পারস্পরিক সংলাপের এক সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
রাষ্ট্রপতি জারদারি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মত প্রকাশের সুযোগ বাড়ালেও তা দায়িত্বশীলতার দাবি রাখে। দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ও ঘৃণ্য বিষয়বস্তু সমাজে বিভাজন, অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে এবং সহিংসতাকে উসকে দেয়, যা জাতীয় সংহতিকে দুর্বল করে তোলে। তাই প্রতিটি নাগরিকের উচিত তাদের কথা ও আচরণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো।
বিদ্বেষ ও কুসংস্কার কেবল সামাজিক মেলবন্ধনকে ক্ষুণ্ন করে না, বরং বিশ্বশান্তি ও মানবিক মর্যাদার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন পাকিস্তানর রাষ্ট্রপতি। তিনি ইসলাম ধর্মের শান্তির বাণীর ওপর জোর দিয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের মাধ্যমেই সমাজে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব।
পাকিস্তানের সংবিধান যে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি জারদারি জাতীয় সংহতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর প্রত্যাশা, ঘৃণা নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে সকল ভেদাভেদ নিরসন করে পাকিস্তানসহ পুরো বিশ্বে একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তথ্যসূত্র: দুনিয়া নিউজ