লেবার পার্টির অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। সোমবার এক আবেগঘন ভাষণে স্টারমার জানান, নতুন লেবার নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী ৯ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগেই তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে স্টারমারের পদত্যাগের চূড়ান্ত প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের জয়। স্থানীয় নির্বাচনে দলের হতাশাজনক ফলাফলের পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নিজ দলেই প্রবল অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল।
এবারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গত দশ বছরে যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে দেশটি ছয়জন প্রধানমন্ত্রী দেখলেও তাদের কারো মেয়াদই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, যা মার্গারেট থ্যাচার বা টনি ব্লেয়ারের মতো দীর্ঘমেয়াদী শাসনের ইতিহাসের বিপরীতে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৭২১ থেকে ১৭৪২ সাল পর্যন্ত রবার্ট ওয়ালপোল দুই দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় ছিলেন, যা ব্রিটিশ ইতিহাসের রেকর্ড।
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিটি প্রার্থীকে অন্তত ৮১ জন লেবার দলীয় এমপির মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে খুব দ্রুত একজন নতুন নেতা মনোনীত হতে পারে অথবা গ্রীষ্মকালীন পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী প্রচারণার মুখোমুখি হতে পারে লেবার পার্টি।