আরজি কর কাণ্ডে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে ওড়িশা থেকে ধৃত প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার পর তথ্য-প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশার একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মূলত নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ওড়িশার স্থানীয় আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, খড়দা থানায় নতুন করে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন অভিযুক্ত নির্মল ঘোষ। ওড়িশায় আত্মগোপন করে থাকার সময় তিনি ঘন ঘন সিমকার্ড পরিবর্তন করছিলেন, যাতে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলা যায়। শেষ পর্যন্ত মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা হয় এবং ওড়িশার একটি হোটেল থেকে পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করে। সব ঠিক থাকলে আজ রাতের মধ্যেই তাঁকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং শুক্রবার আদালতে তোলা হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয় গত ৯ আগস্ট, যখন আরজি করের নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে নতুন করে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেন। পরদিন খড়দা থানায় নির্যাতিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মল ঘোষ ছাড়াও তৎকালীন স্থানীয় পুর কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। অভয়ার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন রাতে শ্মশানে ‘ভিআইপি দেহ’ আসার কথা বলে পুলিশি ঘেরাটোপে তড়িঘড়ি দেহ দাহ করা হয়েছিল, যাতে ঘটনার কোনো প্রমাণ অবশিষ্ট না থাকে।
উল্লেখ্য, ঘটনার পর থেকে অভিযোগ থাকলেও তৎকালীন সময়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। শ্মশান কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিশপ্ত রাতে যখন তরুণী চিকিৎসকের দেহ আনা হয়, তখন চুল্লিতে আগে থেকেই একটি দেহ ছিল এবং আরও দুটি পরিবার সৎকারের অপেক্ষায় ছিল। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘ভিআইপি দেহ’ তকমা দিয়ে দ্রুত সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল, যা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা মহলে বিতর্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। অবশেষে এই গ্রেফতারের মাধ্যমে তদন্তে নতুন গতি এল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
