AdvertisementAdvertisement

জ্বালানি নিরাপত্তায় ২৩ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার গোবরধন প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন

দেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৩ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার ‘গোবরধন’ প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ১০ বছরে ধাপে ধাপে কৃষি বর্জ্য, গোবর এবং অন্যান্য জৈব বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাসকে সিএনজি এবং পিএনজির সঙ্গে মিশিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় কমপ্রেসড বায়োগ্যাস উৎপাদন দশ গুণেরও বেশি বাড়ানো। এর ফলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং পরিবেশ দূষণ রোধে কৃষি বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নগর গ্যাস বিতরণকারী সংস্থাগুলো উৎপাদিত বায়োগ্যাস সংগ্রহ করবে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৩ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে ৪ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষ থেকে ৫ শতাংশ হারে সিএনজি ও পিএনজির সঙ্গে তা মিশিয়ে সরবরাহ করবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে, সরকারের এই নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণ বা ‘ইথানল ব্লেন্ডিং’ কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই সরকার ই-২০ কর্মসূচি চালু করেছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, ভারত মূলত আখ, ধান ও ভুট্টার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জলসম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, বিমান জ্বালানিতে ইথানল মেশানোর গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতর অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু। আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এ বিষয়ে যে অভিযোগ করেছিলেন, তা খারিজ করে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলে ইথানল মেশানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গোবরধন’ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা কেবল জ্বালানি স্বনির্ভরতাই বাড়াবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে। তবে ইথানল মিশ্রণকে কেন্দ্র করে খাদ্য নিরাপত্তা ও জলসম্পদ ব্যবহারের যে উদ্বেগ সামনে এসেছে, তা ভবিষ্যতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আরও বিশদ আলোচনার দাবি রাখে। সব মিলিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে ভারতের এই যাত্রা পরিবেশ সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%