অরুণাচলে চিনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলায় চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির নতুন করে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে চিনা বাহিনী ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে এবং সেখানে পরিকাঠামো নির্মাণ করছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে, কারণ অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এই তথ্যের বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপার সুবানসিরির দুর্গম তাকসিং সার্কেলের পুকার লা এবং ওলো এলাকার কাছে চিনা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই মূলত এই খবর চাউর হয়। অতীতেও জুন মাসে একই জেলায় চিনা অনুপ্রবেশের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, যা ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন এবং ভুল বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
मुख्यमंत्री পেমা খান্ডু স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কোনও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন না। ভারতের সেনাবাহিনী সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছে এবং দেশের ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখতে তারা যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। তবুও স্থানীয়দের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নাহ সম্প্রদায়ের মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামক একটি স্থানীয় সংগঠন। গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া এক স্মারকলিপিতে সংগঠনটি দাবি করে, বিগত ১০ থেকে ১৫ বছরে তাকসিং সেক্টরের বিভিন্ন এলাকায় চিনা বাহিনী রাস্তা, সেতু এবং সামরিক শিবির গড়ে তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ২০২০ সালের পর থেকে এই পরিকাঠামো নির্মাণের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট কেরু চাডেরের স্বাক্ষর করা স্মারকলিপিতে ওয়িং, পানিয়ার, মারপান, পোটরাং লেক এবং টিন্ডিংটাং-এর মতো পাঁচটি নির্দিষ্ট এলাকার উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঐতিহ্যগতভাবে স্থানীয়রা যেসব অঞ্চলে শিকার ও পশুচারণের কাজ করতেন, তার বেশ কিছু অংশ এখন চিনা নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এই জায়গাগুলোর মধ্যে কয়েকটি আবার স্থানীয়দের কাছে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সেনাবাহিনী কিংবা রাষ্ট্রের প্রতি কোনো অনাস্থা নেই বলে জানিয়েছে নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। বরং দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সীমান্ত রক্ষার জন্য বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে তারা। সীমান্তবর্তী এলাকায় ১,০৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমারেখা রক্ষার কৌশল ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় স্তরের দাবি এবং সরকারি অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনার ওপরই এখন জোর দিচ্ছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
