শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ইস্যুতে দেশজুড়ে নতুন আন্দোলনের পথে ককরোচ জনতা পার্টি

শিক্ষা, বেকারত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ—এই চার মূল স্তম্ভকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারত জুড়ে ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’ শীর্ষক এই ব্যাপক গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে দলটি। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে দলের দু’দিনের কোর কমিটির বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে তাদের সমস্যা, মতামত ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি শোনা। বিশেষত স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারের আকাশছোঁয়া ফি বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য মানসম্মত শিক্ষা যে ক্রমে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। দলটির দাবি, তাদের এই লড়াই সাংবিধানিক নীতির ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হবে, যেখানে জওহরলাল নেহরু, বিআর আম্বেদকর ও মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে পাথেয় করে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের পথে কাজ করবে সিজেপি।
শিক্ষা সংস্কারের পাশাপাশি দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের বিষয়টিও সিজেপির প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গত মাসে নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত দীর্ঘ বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে অভিজিৎ দীপকে জানান, ওই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বেকার যুবক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে এবং যুব সমাজের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়েই দেশজুড়ে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় তার সংগঠন।
দলটির কো-কনভেনর সৌরভ দাস শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা সুনিশ্চিত করা অপরিহার্য, অন্যথায় গণতন্ত্র তার কার্যকারিতা হারায়। ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচির পাশাপাশি সিজেপি এবার দেশব্যাপী সদস্য সংগ্রহ অভিযানও শুরু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে ছাত্র, তরুণ চাকরিজীবী ও শ্রমিকদের সংগঠনের পতাকাতলে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিক সাফল্যের পর, জাতীয় রাজনীতির ময়দানে এই নতুন জনমুখী প্রচার কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই পর্যবেক্ষকদের আলোচনার কেন্দ্রে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
